সুদানে নির্বাচনের পর রাজনীতি ছাড়বে সেনাবাহিনী : বুরহান

সুদানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান জানিয়েছেন, দেশটিতে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পর সামরিক বাহিনী রাজনীতি থেকে সরে আসবে।

সুদানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান জানিয়েছেন, দেশটিতে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পর সামরিক বাহিনী রাজনীতি থেকে সরে আসবে।

শনিবার বিবিধ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে দেয়া সাক্ষাতকারে এই কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকার যখন নির্বাচিত হবে, আমি মনে করি না সেনাবাহিনী, সামরিক বাহিনী বা অন্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করবে। এতে আমরা একমত হয়েছি এবং এটিই স্বাভাবিক পরিস্থিতি।’

এর আগে গত অক্টোবিরে সুদানের সামরিক-বেসামরিক যৌথ নেতৃত্বের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুককে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাহী ক্ষমতা সম্পূর্ণ নিজের হাতে নেন সুদানের সামরিক প্রধান। তবে দেশটির জনতার বিক্ষোভের জেরে ২১ নভেম্বর পুনরায় আবদুল্লাহ হামদুকের নেতৃত্বে বেসামরিক অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠনে চুক্তি করেন জেনারেল আল-বুরহান। অন্তর্বর্তীকালীন এই মন্ত্রিসভা ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন পর্যন্ত সুদানের নির্বাহী ক্ষমতার দায়িত্বে থাকবে।

এদিকে পূর্ণ বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সুদানে এখনো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভে এই পর্যন্ত অন্তত ৪৪ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বিক্ষোভে হতাহতদের বিষয়ে জেনারেল আল-বুরহান বলেন, ‘বিক্ষোভে ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে যে কারা এর সাথে জড়িত। ওই অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হবে।’

সুদানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জানান, তিনি প্রত্যাশা করেন বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ভুর্তুকি পুনঃস্থাপনসহ গত দুই বছরে নেয়া সংস্কারসমূহকে অব্যাহত রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে আফ্রিকান ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা লক্ষ্য রাখছে।’

জেনারেল আল-বুরহান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এতে ইতিবাচক সূচক রয়েছে যা শিগগিরই ফল দেবে। বেসামরিক সরকার গঠন এই বস্তুকে যথাযথ স্থানে রাখবে।’

সুদানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের অংশীদারমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সভরেইন কাউন্সিলের উভয়পক্ষের মতবিরোধের জেরে প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুকসহ বিপুল বেসামরিক নেতৃত্বকে ২৫ অক্টোবর সামরিক বাহিনী গ্রেফতার করে এবং সামরিক প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান পূর্ণ ক্ষমতা দখল করেন।

সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপকে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সুদানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।

তবে জেনারেল বুরহান তার এই পদক্ষেপকে অভ্যুত্থানের বদলে ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণকে শোধরানোর’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে বিশ্বজুড়ে সুদানে সামরিক বাহিনীর নিন্দা জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাংক দেশটিতে প্রদত্ত সহায়তা স্থগিত করে। এছাড়া আফ্রিকান ইউনিয়ন সুদানের সংস্থাটিতে সদস্য পদ স্থগিত করে।

পরে ২১ নভেম্বর আবদুল্লাহ হামদুকের সাথে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাহী ক্ষমতা পরিচালনার জন্য মন্ত্রিসভা গঠনে জেনারেল আল-বুরহান চুক্তি করেন।

তবে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বিভিন্ন দল এই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সম্পূর্ণ বেসামরিক সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা।
প্রভাতনিউজ/এনজে