সূচকের বড় পতন, কমেছে লেনদেন

টানা তিন কার্যদিবসে বড় উত্থানের পর বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৬৬ কোম্পানির শেয়ার দামের সর্বনিম্ন সীমা বা ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় এই দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বিএসইসি লকডাউনের মধ্যে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। যে কারণে টানা তিন কার্যদিবস বাজারে বড় উত্থান হয়। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে হঠাৎ ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কে দেখা দেয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে।

৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার আগে লকডাউনের মধ্যে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজরে বড় উত্থান হয়। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স প্রায় আড়াই’শ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আর বাজার মূলধন বাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার কমিশন সভা করে তালিকাভুক্ত ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে এই কোম্পানিগুলোর ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানায় বিএসইসি।

বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের পর রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা কড়া সমালোচনা করতে থাকেন। শেয়ারবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে এসব বিনিয়োগকারীরা পোস্ট দেন বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের কারণে বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হবে।

এদিন শেয়ারবাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের সেই শঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়। লেনদেনের শুরুতেই একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দরপতন হতে থাকে। এতে ৫ মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ৬০ পয়েন্ট পড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে বাড়ে পতনের মাত্র।

এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে নেমে যায়। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজারটিতে দিনভর লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৪টির। আর ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূল্য সূচকের পতনের সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৫৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির ২৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ২০ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়া প্যাসেফিক ইনস্যুরেন্স।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- প্রভাতী ইনস্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স, অগ্রণী ইনস্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, দেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স এবং বেক্সিমকো ফার্মা।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির দাম।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ফ্লোর প্রাইসের কারণে ওই ৬৬ কোম্পানির শেয়ার তেমন লেনদেন হচ্ছিল না। বাজারে লেনদেনের গতি বাড়ানোর জন্য হয়তো বিএসইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। এমনে এখন একটি ক্রান্তিকাল যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি যেকোনো বিষয় বাজারে পেনিক সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিএসইসির উচিত ছিল আরও সময় নিয়ে ফ্লোর প্রাইস তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া।

বিনিয়োগকারী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। বুধবার রাত থেকেই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে এ নিয়ে লেখা-লেখি করেন।