সূচকে যোগ হলো এক পয়েন্ট

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) লেনদেনের শুরুতে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা টেকেনি। দিনের লেনদেন শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকে মাত্র এক পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

প্রধান মূল্য সূচক এক পয়েন্ট বাড়লেও বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকায় যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠান নাম লিখিয়েছে, তার থেকে বেশি প্রতিষ্ঠান পতনের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে শেয়ারবাজারের এমন চিত্র দাঁড়ালেও শুরুটা ছিল খুবই ভালো। লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় লেনদেনের শুরুতেই তালিকাভুক্ত প্রায় সবকটি অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়ে যায়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক শেয়ারবাজারে। ফলে প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

এর আগে সোমবার (২২ মার্চ) আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশের সীমা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশসহ মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে। অনতিবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

তার আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশ বণ্টন সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ অনুমতি (বাকিতে সংরক্ষণ) নেয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগকারীদের নগদে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

কিন্তু বিশেষ বিবেচনায় সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে। আবার যাদের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি তারা পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।

এছাড়া যাদের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ ১০ শতাংশের চেয়ে কম কিন্তু খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি-তারাও এ তালিকায় থাকবে। এর বাইরে অর্থাৎ সন্তোষজনক অবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে।

এ নির্দেশনা জারির পর সার্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরপর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের সীমা বাড়ানোর ফলে মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে প্রায় সবকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ে। সেই সঙ্গে অন্যান্য খাতেরও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। কিন্তু সকাল ১১টার হঠাৎ বাজারের চিত্র বদলে যায়। বড় উত্থান থেকে দেখতে দেখতে ঋণাত্মক হয়ে পড়ে সূচক।

অবশ্য সূচকের ঋণাত্মক অবস্থা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। তারপরও শেষ দিকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় লেনদেন শেষে ৯৩টি প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৮টির। আর ১১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের পরও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪১৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রধান মূল্য সূচক বাড়লেও ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৩১ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৬৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৬২ কোটি ১১ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৬১ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, সামিট পাওয়ার এবং জিবিবি পাওয়ার।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৭টির এবং ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।