করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দুই-একদিনের মধ্যে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
শনিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে মানিকগঞ্জে সদর উপজেলার গড়পাড়ায় শীতবস্ত্র বিতরণের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, গতকাল এবং পরশু দেশে প্রায় সাড়ে ১১শ’ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। এটা আশঙ্কাজনক। করোনা সংক্রমণ বাড়লে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। পাশাপাশি হাসপাতালে বেডের সংখ্যাও কমে যাবে। সেজন্য আমাদের আগে থেকেই সজাগ হতে হবে। জাতীয় কারিগরি কমিটির যে নির্দেশনা আসবে সেগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা অনুমোদন করছেন। দুই-একদিনের মধ্যে নির্দেশনাগুলো সব জেলায় চলে আসবে, না আসলেও তা কার্যকর হয়ে যাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে ভয়াবহভাবে করোনা সংক্রামণ বাড়ছে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রামণ এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্কুল-কলেজ খোলা রয়েছে। আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যাত্রীবাহী বাস-ট্রেন-লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্দেশনা আসবে। সব দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। রেষ্টুরেন্টে টিকা সনদ ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না।
এদিকে শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চার দফা সুপারিশ করে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এতে পাশের দেশ ভারতসহ সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ বন্ধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া, মাস্ক পরা নিশ্চিত করা, হাত পরিষ্কার রাখা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নিয়মিত নজরদারির বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে পরামর্শক কমিটি। শিক্ষার্থীসহ সবাইকে দ্রুত টিকার আওতায় নিয়ে আসা, সব পয়েন্ট অব এন্ট্রিতে স্ক্রিনিং, কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন আরো জোরদার করা এবং সংক্রমণ বেড়ে গেলে তা মোকাবিলায় হাসপাতাল প্রস্তুতি বিশেষ করে পর্যাপ্ত সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবাহের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
প্রভাতনিউজ/এবিএস





