ভুয়া করোনা নেগেটিভ সনদ দেয়ার অভিযোগে ১৪ জন গ্রেফতার

বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা টেস্টে নেগেটিভ সনদ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেফতাররা হলেন – বেলাল হোসেন (৩১), জসিম উদ্দিন (২২), সুলতান মিয়া (১৯), আবুল হোসেন (২৪), আবদুল নুর (২১), আলফাজ মিয়া (১৯), শামিম (৩২), আহাম্মদ হোসেন (১৯), ইমরান উদ্দিন মিলন (১৯), সবুজ মিয়া (২৭), আব্দুর রশিদ (২৮), আব্দুল করিম চৌধুরী (৩২), আঙ্গুর মিয়া (২৫) ও আলমগীর হোসেন (২০)।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর সায়েদাবাদ, রমনা ও মতিঝিল, কুমিল্লার কোতোয়ালি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১২০টি সিমকার্ড, সিম অ্যাক্টিভেট করার ১টি ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন, ১টি ট্যাব, ৩২টি মোবাইল, ১টি পাসপোর্ট, নোটবুক এবং চক্রের সদস্যদেও বেতনের হিসাব বিবরণী জব্দ করা হয়।

তিনি জানান, গ্রেফতাররা বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা টেস্টের ফলাফল বদলে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এই প্রতারক চক্রটির কোনো হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, তারা প্রথমে করোনা টেস্টের নমুনা দিতে আসা মানুষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। এরপর তাদের ফোন করে করোনা পজিটিভ বলে জানাতেন। এ সময় করোনা টেস্টের ফল পরিবর্তন করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি। এভাবে চক্রটি কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে।

র‌্যাব জানায়, এ প্রতারক চক্রের মূলহোতা বেলাল নিজেই বিদেশ যাওয়ার সময় নেগেটিভ সনদ পাওয়ার আশ্বাসে প্রতারণার শিকার হন। এরপর তিনি নিজেই এমন প্রতারণার উদ্দেশ্যে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এমনকি প্রতারণা চালিয়ে যেতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন।

কমান্ডার মঈন বলেন, এ চক্রের অন্য সদস্যরা সরকার নির্ধারিত বিদেশগামীদের করোনা টেস্ট হাসপাতালগুলোতে সকাল ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত যাত্রীবেশে অবস্থান করে কৌশলে যাত্রীদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে। এরপর নম্বরগুলো বেলাল ও তার সহযোগী সবুজকে পাঠানো হতো। যাত্রীরা প্রকৃত করোনা টেস্টের ফলাফল হাতে পাওয়ার আগেই বেলাল ও সবুজ সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের করোনা বিভাগের কেউ পরিচয় দিয়ে ফোন দিয়ে ফলাফল পজিটিভ আসছে বলে জানাতো। পজিটিভ রেজাল্ট নেগেটিভ করতে জনপ্রতি ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতেন তারা।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এদের মধ্যে আলফাজ, জসিম, শামিম ও সুলতান একই সময়ে বেলাল ও সবুজকে বিভিন্ন জায়গার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নাম্বার দিতো। ভুক্তভোগীরা বেলাল ও সবুজের কথা অনুযায়ী টাকা পাঠালে আলফাজ, জসিম, শামিম ও সুলতান তা সংগ্রহ করতেন। ভুক্তভোগীর অবস্থান চিহ্নিত করে ভিন্ন জেলা থেকে টাকা সরবরাহ করা হতো।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয় প্রেসব্রিফিংয়ে।

র‌্যাব সদর দফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তথ্যসূত্র : বাসস।

প্রভাতনিউজ/এনজে