প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১৪ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ১১টা ৫০ মিনিটে কানাডায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিচালকের মেয়ে আলিয়া রহমান বিন্দি নিশ্চিত করেছেন। জীবনের শেষ সময় পরিবারকেই পাশে পেয়েছিলেন এই পরিচালক। মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
জানা যায়, এরই মধ্যে আজিজুর রহমানকে ঢাকায় আনার প্রস্তুতি চলছে। তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে এফডিসিতে। এরপর গ্রামের বাড়ি সান্তাহার দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ও ব্যবসা সফল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমার পরিচালক তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন আজিজুর রহমান। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কানাডার টরোন্টোর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেন।
আজিজুর রহমান ১৯৩৯ সালের ১০ অক্টোবর বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রুপচাঁন প্রামানিক। তিনি স্থানীয় আহসানুল্লাহ ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাস ও ঢাকা সিটি নাইট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। চারুকলা আর্ট ইনস্টিটিউটে কমার্সিয়াল আর্টে ডিপ্লোমা করেন।
অনেক সফল চলচ্চিত্রের পরিচালক আজিজুর রহমান। ১৯৫৮ সালে ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে এহতেশামুর রহমানের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। এই পরিচালকের সর্বশেষ সিনেমার পরিচালকও ছিলেন তিনি।
আজিজুর রহমান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ময়মনসিংহের লোককথা নিয়ে ‘সাইফুল মূলক বদিউজ্জামান’। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। এ পর্যন্ত তিনি ৫৪টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
আজিজুর রহমানের চলচ্চিত্র নির্মাতার পাশাপাশি চিত্রশিল্পী হিসেবেও অনেক সুখ্যাতি রয়েছে। করোনাকালে ছেলে মেয়ের কাছে থাকাকালীন পেইন্টিং করে অবসার সময় পার করতেন তিনি। সেসময় জলরং ছিল তার অবসরের সাথী।
এ সময় তিনি অসংখ্য ছবি আঁকা আঁকি করেন। এই নির্মাতার জীবনের শেষ ইচ্ছে ছিল তার আঁকা চিত্র প্রদর্শনী করার। কিন্তু জীবনের শেষ ইচ্ছে পূরণ করার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
আজিজুর রহমান পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘মাটির ঘর’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘ডাক্তার বাড়ি’, ‘গরমিল’, ‘দিল’ ও ‘সমাধান’ ইত্যাদি।
প্রভাতনিউজ/এনজে





