অবশেষে চাপের কাছে নতিস্বীকার করে পদত্যাগ করতে চলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবারই (৭ জুলাই) জনসন দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন। দেশটির দুই কর্মকর্তা জানান, বরিস আজকেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন।
জনসনের একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র জানান, বরিস গত ৪৮ ঘণ্টায় দেখিয়েছেন তিনি লড়াইয়ে নামবেন কিন্তু তিনি স্বীকার করেছেন তাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। তবে তিনি চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০১৯ সালে বরিস জনসন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হন। কিন্তু গত ২ বছর ধরেই তিনি একের পর এক কেলেংকারিতে জড়িয়ে দলের মধ্যে অনেকের আস্থা হারিয়েছেন।
বিশেষ করে করোনা লকডাউন চলাকালে সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটে একাধিক মদের আসর ঘিরে সমালোচনার সৃষ্টি। তাতে অনেকটা পার পেয়ে গেলেও সর্বশেষ দলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয় ডেপুটি চিফ হুইপ হিসেবে ক্রিস পিনচারকে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পর।
দেশটির এক এমপি’র বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগকে ঘিরে বরিস জনসনের এই সর্বশেষ সংকটে পড়েছে। কনসারভেটিভ পার্টির এমপি ক্রিস পিঞ্চারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি একজনের ওপর যৌন হামলা চালিয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও কেন জনসন পিঞ্চারকে ডেপুটি চিফ হুইপ নিয়োগ করেন- এটি নিয়েই মূলত তোপের মুখে পড়েন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই মন্ত্রীর নাটকীয় পদত্যাগ ব্রিটিশ রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরই একের পর এক জুনিয়র মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করতে থাকেন বরিস জনসনের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে।
ইতোমধ্যে বরিসের ঘনিষ্ঠ একজন মিত্র বিবিসিকে বলেছেন, “এখন প্রশ্ন আসলে তিনি কিভাবে বিদায় নেবেন।” তিনি আরও বলেছেন, পরিস্থিতি আর তার টিকে থাকার মত অবস্থায় নেই।
বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে চলেছেন জনসন। বিবিসি ও স্কাই নিউজ জানাচ্ছে, সেখানেই তার সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন জনসন।





