ফ্রান্স ফুটবলের দেওয়া বর্ষসেরার পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ফরাসি সাময়িকী । এ তালিকায় জায়গা পাননি ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসির। তালিকায় নাম রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। এটি মেনে নিতে পারছেন না মেসি-ভক্তরা। সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা।
ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় লিওনেল মেসি প্রথম জায়গা করেন নেন ২০০৬ সালে। সেই থেকে টানা ১৫ বার ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসির নাম ছিল। এবারই প্রথম ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও ঠাঁই পাননি আর্জেন্টাইন তারকা। ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই মেসির পিএসজি সতীর্থ নেইমারও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন এসব প্রশ্নের ঝড় বইছে, তখন এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিল সাময়িকীটি। ১৯৫৬ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের প্রচলন করা সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ মেসিকে তালিকার বাইরে রাখার ব্যাখ্যা দিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ। সংবাদমাধ্যমটিতে প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয় এবং ফ্রান্স ফুটবলের হয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন সাময়িকীটির উপ-প্রধান সম্পাদক এমানুয়েল বোয়ান। মেসির বাদ পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যালন ডি’অরের জন্য নতুন যে মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে, তা মেসির পক্ষে ছিল না; খেলোয়াড়ের পুরো ক্যারিয়ার বিবেচনার বিষয়টি উঠে গেছে, নতুন মডেলে পুরো বছরও নয়, একটা মৌসুম বিবেচনা করা হয়েছে, যে কারণে ২০২১ সালের ১১ জুলাই কোপা আমেরিকা জয় বিবেচনায় আসেনি।’তিনি জানান, ব্যালন ডি’অরে গত বছর সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, সেরা খেলোয়াড় বিচারের জন্য সবার আগে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দেখা হচ্ছে। দলগত পারফরম্যান্স আসবে পরে। সে হিসেবে মেসি গত মৌসুমে লিগ জিতলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ভালো ছিল না।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্তুগিজ তারকা রোনালদোর সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাখ্যাও দেন বোয়ান। মেসি নেই, কিন্তু রোনালদো কীভাবে জায়গা পেলেন—এ নিয়ে তুমুল শোরগোলের মাঝে বোয়ানের দাবি, ‘পরিসংখ্যান ঠিক উল্টোটা বলছে।’ অর্থাৎ পরিসংখ্যান রোনালদোর পক্ষে বলে দাবি করেন বোয়ান। তাঁর যুক্তি, ‘এই মৌসুমে রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করেন (১১৭)। চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বেও দারুণ ছিলেন রোনালদো, তাঁর ৪ গোলে ৭ পয়েন্ট পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগে দুটি হ্যাটট্রিকসহ ১৮ গোল করেছেন। সব মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ৩২ গোল হয়তো তাঁর সেরা মৌসুম নয়, কিন্তু বিশ্বের সেরা ৩০ খেলোয়াড়ের তালিকায় থাকতে যথেষ্ট।’
এদিকে রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য ঘোষণা করেই দিয়েছেন যে, ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে রয়েছে বেনজেমা। এবারের ব্যালন ডি’–অর পুরস্কার জয়ে বেনজেমার সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন তাঁর রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ থিবো কোর্তোয়াও। গত মৌসুমে রিয়ালকে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে গোল পোস্টের নিচে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। এ ছাড়া আছেন বেনজেমার আরও তিন সতীর্থ লুকা মদরিচ, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কাসেমিরো। বেনজেমার সঙ্গে ব্যালন ডি’অর জিততে এ ছাড়া লড়াই করবেন রবার্ট লেভানডফস্কি, সাদিও মানেরা। ৩০ জনের তালিকায় সর্বোচ্চ সাতজন জায়গা পেয়েছেন গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের রানার্সআপ দল লিভারপুল থেকে।
অন্যদিকে, ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকার এমবাপ্পে বলেছেন, ‘করিম বেনজেমা ৩৪ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম পার করেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে, মূলত ব্যালন ডি’অর জয়ে এই শিরোপাই পার্থক্য গড়ে দেয়। তাঁর হাতে এবার ব্যালন ডি’অর না উঠলে এই পুরস্কারের প্রতি আজীবনের জন্য আমার বিশ্বাস উঠে যাবে।’ ব্যালন ডি’অর ট্রফি বেনজেমার হাতে দেখলেও নিজেকে সেরা তিনে দেখেন এই ফরাসি তারকা। সেনেগালিজ তারকা সাদিও মানেকেও সেরা তিনে রাখছেন এমবাপ্পে।
আগামী ১৭ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম। এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদানের জমকালো আয়োজন করা হচ্ছে প্যারিসে।





