বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব ব্যাংকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী লেনদেন চলছে। সকাল ৯টায় লেনদেন শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। কিন্তু পরিবর্তিত লেনদেনের সময়সূচির প্রথম দিন সকালে ব্যাংকে গ্রাহক উপস্থিতি রয়েছে কম। প্রথম কর্মঘণ্টায় লেনদেনে ছিল ধীরগতি। তবে ধীরে ধীরে গ্রাহক উপস্থিতি বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন এলাকায় কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অফিসের সময়সূচি কমিয়েছে ও এগিয়ে এনেছে। কিন্তু ব্যাংকের সময় এগিয়ে আনলেও কমানো হয়নি। তাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে কেমন করে তা বোধগম্য নয়। সময় কমিয়ে আনার ফলে সব গ্রাহক ব্যাংকের নতুন সময়সূচি জানতেও সময় লাগবে। তাই অনেক গ্রাহকই আগের সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকে এসে লেনদেন করতে না পারলে ভোগান্তিতে পড়বে। তবে প্রকৃত পক্ষে যদি বিদ্যুৎ জ্বালানি সাশ্রয় করতে হয় তাহলে ব্যাংকের কর্মঘণ্টাও সরকারি অন্যান্য অফিসের মতো কমানো উচিত।
সোনালী ব্যাংক মতিঝিল স্থানীয় শাখায় সকাল ৯টায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীরা সময় মতো অফিসে এসেছেন। গ্রাহক উপস্থিতি তেমন ছিল না। কর্মকর্তারা জানান, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আজ প্রথম দিন। তাই সকালে উপস্থিতি কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের উপস্থিতি বাড়বে। তাছাড়া, কয়েকদিন গেলে নতুন সময় সূচিতে গ্রাহকরা অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য অফিসের সময় কমানো হয়েছে অথচ আমাদের ব্যাংকের সময় ঠিক রাখা হয়েছে। অন্যান্য অফিসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাংকের কর্মঘণ্টাও কমাতে পারলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, তাছাড়া ব্যাংকের কার্যক্রমে তো অনেক বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। কিন্তু কর্মঘণ্টা না কমিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে তা বোধগম্য নয়।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সাশ্রয়ে আজ থেকে ব্যাংকে সকাল ৯ টা থেকে লেনদেন শুরু হয়েছে। যা চলবে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত। কিন্তু ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা। কিন্তু নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ৭ ঘণ্টা কার্যক্রম চলবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে। এদিকে ব্যাংকের নতুন সময় সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি চেক ক্লিয়ারিংয়েও সময় পরিবর্তন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। হাই ভ্যালুর চেক অর্থাৎ ৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য বেলা ১১টার মধ্যে পাঠাতে হবে। এগুলো দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। আর যেকোনো রেগুলার চেক (৫ লাখ টাকার কম) বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে ক্লিয়ারিং হাউজে পাঠাতে হবে। এসব চেক বিকেল ৪টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।





