দেশে গুম-খুন শুরু করেছে জিয়াউর রহমান: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে গুম খুন শুরু করেছে জিয়াউর রহমান, ভোট কারচুপি শুরুও তার হাতে। জিয়াউর রহমানের আমলে যারা নিখোঁজ হন তাদের আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা ১৫ আগস্টের খুনি, তাদের স্বজন ও কিছু অপরাধী দেশের বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পিতা-মাতার কোলে আমাদের শিশু হিসেবে জন্ম হয়। তাদের স্নেহের-পরশে আমরা বেড়ে উঠি, মানুষ হই। সেই পিতা-মাতা-ভাই-বোন-স্বজনের স্বাভাবিক মৃত্যুই যেখানে আমরামেনে নিতে পারি না। আমৃত্যু সেই ক্ষত আমাদের বয়ে বেড়াতে হয়। সেখানে এই মৃত্যুই যদি হয় পিরকল্পিত, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এবং অনৈতিক ইচ্ছাপুরণের – তাহলে তো সেই কান্নার কোন শেষ থাকে না।

১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নৃশংস হত্যার ব্যথা আজও সমানভাবে অনুভব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সীমাহীন এই কষ্টের অনলে আজোও প্রতিনিয়ত ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয়। স্বজন হারানোর ব্যাথা আজোও তাই অশ্রু হয়ে ঝরছে। একই দিনে বাবা শেখ ফজলুল হক মনি এবং মা আরজু মনিকে হারান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং শেখ ফজলে নূর তাপসও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে হওয়ার খেসারত সেদিন জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে শেখ ফজলুল হক মনি এবং আরজু মনিকেও। শিশু বয়সে মা-বাবা হারানোর পর তাদের হৃদয়ে যে শুন্যতা তৈরি হয়েছে, সে শুন্যতা কখনই পূরণ হবার নয়। ৪৭ বছর পর সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করে মায়ের মতো পরম মমতায় এতিম দুই ভাইকে কাছে টেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারা পৃথিবী জুড়ে কিছু মানুষ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপতৎরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে এ সময় মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি, যুদ্ধাপরাধীদের স্বজনরাই বিদেশে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তবে আমরা সংঘাত চাই না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে না পাঠালে নাকি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হবে না। আসামিকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠায়? তাহলে তো আদালতের কিছুই আর বাকি থাকবে না। ‌আমরা সবাইকে বিদেশে পাঠাবো?