২৯সেপ্টেম্বর ২০২২(প্রভাত নিউজ) কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন ও পলাতক একজনসহ সাতজনই জড়িত বলে তদন্ত কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে। কমিটি তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। আগামী রবি অথবা সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে পলাতক আসামি ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আবু হানিফ ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে। তারা এখন প্রতিবেদন তৈরি করছে। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি আগামী দিনে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা প্রতিবেদনে সুপারিশ আকারে পেশ করবে। ’
তিনি আরো বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রমে পলাতক একজনসহ মোট সাতজন প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে ছয়জনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। অপর একজন বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে গেছে বলে জানা গেছে। ’
গ্রেপ্তারকৃত ছয়জন হলেন কুড়িগ্রামের নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান, ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জোবাইর রহমান, কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলা শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়া। এ ঘটনার পর ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আবু হানিফ পলাতক।
২০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনাজপুর বোর্ডে অনুষ্ঠিত ইংরেজি প্রথম পত্র ও ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই কেন্দ্রের সচিব লুৎফর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তার কাছে কয়েক দিনের আগাম প্রশ্নপত্র রয়েছে বলে জানান। পরে তার রুম তল্লাশি করে গণিত (আবশ্যিক), উচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, কৃষি বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষা স্থগিত কর হয়।
২২ সেপ্টেম্বর স্থগিত হওয়া চারটি পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ও উচ্চতর গণিতের (তত্ত্বীয়) প্রশ্নপত্র বাতিল করা হয়।





