২০২১ সালের আরব আমিরাত বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ছিল পাকিস্তান। ওই সময় দুর্দান্ত ফর্মে ছিল দলটি। তবে সেমিফাইনালে অপ্রত্যাশিতভাবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায়। এতেই ছিটকে যায় বাবর আজমের দল।
বছর পেরিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের শক্তির আভাস দিচ্ছে পাক খেলোয়াড়রা। শ্রেষ্ঠত্বেরই লড়াইয়ে একের পর এক ধাপ পাড়ি দিচ্ছে দলটি। গেল বিশ্বকাপের ধূলিসাৎ স্বপ্ন ভুলে নতুন করে জয়ের স্বপ্ন দেখছে দলটি।
সর্বশেষ ‘বাংলাওয়াশ’ ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের শিরোপাও জিতেছেন পাকিস্তান। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
তবে পাকিস্তানের বর্তমান মিডল-অর্ডার নিয়ে বরাবরই সমালোচনা হয়। এমনকি পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতার শঙ্কা করেছেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তান প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়তে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি মূলত পাকিস্তানের মিডল-অর্ডারকে চিহ্নিত করেছেন।
এবার স্বাগতিক কিউইদের বিপক্ষে মিডল-অর্ডারের পারফরম্যান্স সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে। মিডল অর্ডারের দৃঢ়তাতেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। ১৫তম ওভারে ২৫ রান তুলে নিয়ে পুরো ম্যাচের সমীকরণ পাল্টে দেন মিডল-অর্ডারে ব্যাট করতে আসা মোহাম্মদ নওয়াজ এবং হায়দার আলি।
‘বাংলাওয়াশ’ শিরোপা জিতে পাকিস্তানের লক্ষ্য এবার বিশ্বকাপ। ম্যাচ শেষে এমনটাই জানিয়েছেন পাক অধিনায়ক বাবর আজম এবং ম্যান অব দ্য ফাইনাল মোহাম্মদ নওয়াজ।
সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নওয়াজ জানান, সামনে বিশ্বকাপ। এখন আমরা আমাদের দৃষ্টি বিশ্বকাপের দিকে।
এক ২৫ রান নেওয়া প্রসঙ্গে নওয়াজ বলেন, হায়দার আগের ওভারে বাউন্ডারি মেরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। আর ওই ওভারে আমরা বাতাসের গতিকে কাজে লাগিয়েছি। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো দেশ থেকে এসে এখানে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া কঠিন। এখন আমরা বিশ্বকাপের দিকেই তাকিয়ে আছি।
পাক অধিনায়ক বাবর আজম জানালেন, ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতে যে আত্মবিশ্বাস অর্জন হয়েছে, বিশ্বকাপে আমরা এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই যেতে পারছি।
তিনি বলেন, ম্যাচে নিজেকে সেভাবেই মেলে ধরার চেষ্টা করছি, যেভাবে নেটে অনুশীলন করেছিলাম। যেকোনো দলের জন্য মিডল-অর্ডারে ব্যাটিং অনেক সহায়ক। আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, সে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা মাঠে পারফর্ম করতে পেরেছি।
ফিল্ডিং নেওয়া প্রসঙ্গে বাবর বলেন, উইকেট দেখার পরও টসের সময় আমি আমার চিন্তা পরিবর্তন করিনি। উইকেটও তেমনটাই ছিল (কিছুটা স্লো)। এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে যেতে পারব।





