সব নায়িকা একই ধরনের পোশাক পরতেন : মুনমুন

ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী মুনমুন। এই অভিনেত্রীকে বরাবরই অশ্লীলতার তকমা দেওয়া হয়, যা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি তিনি একটি গণমাধ্যমে বলেন, আমি ১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ছবিতে নায়িকা হিসেবে নিয়মিত কাজ করেছি। ওই সময় কিন্তু সিনেমায় অশ্লীলতা সেভাবে ছিল না। ২০০৬, ২০০৭ সালের দিকে সিনেমায় অশ্লীলতার জোয়ার ছিল। তত দিনে আমি চলচ্চিত্র থেকে সরে আসি। ১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওই সময়ের আমার ছবি দেখেন, কোথাও অশ্লীলতা পাবেন না। আমি যে হট পোশাক পরেছি, খোলামেলা পোশাক পরেছি, তার প্রমাণ কোথায়?

আমি যে পোশাক পরে অভিনয় করতাম, তখনকার সব নায়িকাই একই ধরনের পোশাক পরে অভিনয় করতেন। তখনকার আমার সিনেমাগুলো দেখলেই বুঝবেন। একটা মহল আমার পেছনে লেগে আমার এই সর্বনাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, শাকিব খান, আমিন খান, নাঈম, রুবেল, বাপ্পারাজসহ দেশের এ গ্রেডের অনেক নায়কের বিপরীতে নায়িকা ছিলাম আমি। এই সময়ে এসেও অশ্লীলতার ব্যাপারটি ধরে আমাকে কেন বারবার প্রশ্ন করা হয়? না জেনে, না বুঝে অনেকেই আমার দিকে এ বিষয়ে আঙুল তোলেন। খুবই কষ্ট লাগে। আমার ইতিহাসটা সবার জানা উচিত।

প্রসঙ্গত, এহতেশাম পরিচালিত ‘মৌমাছি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় আগমন ঘটে মুনমুনের। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা সিনেমায় কাজ করেছেন। তবে অশ্লীলতার জন্য তার বিপক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার।

এ জন্য ২০০৩ সালের পর তার চলচ্চিত্রে উপস্থিতি কমে যায়। মুনমুন এখন সিনেমায় অনেকটা অনিয়মিত। ৬ বছরে ৮০টির মতো সিনেমায় কাজ করেছেন। আর গেল ২০ বছরে সিনেমার সংখ্যা হাতে গোনা ১০টির মতো। সর্বশেষ ২০১৯ সালে হারুন-উজ-জামান পরিচালিত ‘পদ্মারপ্রেম’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তবে খুব বেশি একটা আলোচনায় আসেনি।

সম্প্রতি তার অভিনীত ‘রাগী’ সিনেমাটি সারাদেশের ২০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। তবে নায়িকা হিসেবে নয়, খলনায়িকা চরিত্রে। মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত এই সিনেমায় তাকে প্রথমবারের মতো এই চরিত্রে দেখা গেল।