‘হ্যান্ড অব গড’র কথা মনে আছে? মনে আছে উনবিংশ শতাব্দীর সেরা গোলের কথা? একটু রিওয়াইন্ড করে দেখুন- মনে পড়ছে কিছু! হয়তো চোখের সামনে ভেসে আসছে দিয়াগো ম্যারাডোনার ছবি? হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন। আর যারা ধরতে পারেননি তারা হয়তো মনে করতে চাচ্ছেন না!
‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত গোল দুটিই করেন আর্জেন্টাইন যাদুকর ম্যারাডোনা। সেটাও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কুখ্যাত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করে ম্যারাডোনা হয়েছিলেন সমালোচিত। হেডের পরিবর্তে হাত দিয়ে গোল করে ম্যারাডোনা জড়িয়েছিলেন বিতর্কে। কিন্তু খানিক বাদে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ম্যারাডোনা যা করে দেখান তাতে অমরত্ব পেয়ে যান ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে। ৬২ মিটার দূর থেকে বল নিয়ে ১৩ বার স্পর্শ করে ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান ম্যারাডোনা। এ গোলটি করতে ম্যারাডোনা কতজন খেলোয়াড়কে পরাস্ত করেছিলেন জানেন?
মাঝ মাঠ থেকে ডি বক্সের ভেতর পর্যন্ত মোট ছয়জনকে পরাস্ত করে ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান ম্যারাডোনা। তাতেই অমরত্ব। ম্যাচ শেষে নিজেই সেই বিতর্ককে উসকে দিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘একটু ম্যারাডোনার মাথা আর একটু ঈশ্বরের হাত।’ ফুটবল ইতিহাসে যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে অমর হয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই জয়ের পর আর্জেন্টিনাকে আর থামানো যায়নি, থামানো যায়নি ম্যারাডোনাকে। পুরো প্রতিযোগিতায় পাঁচ গোল করেন, সতীর্থদের দিয়ে করান আরও পাঁচটি গোল। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩–২ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা জেতে বিশ্বকাপের ১৩তম আসর, নিজেদের দ্বিতীয়।
বহু বছর পর জানা যায়, ম্যাচ শেষে সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের অ্যাডিডাস ম্যাচ বলটি নিজের কাছে রেখে দেন তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের। ২০২২ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সি নিলামে ৯.২৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়, যা তখন পর্যন্ত কোনো ক্রীড়া স্মারকের জন্য সর্বোচ্চ নিলামমূল্য ছিল। এরপর অনুপ্রাণিত হয়ে আলি বিন নাসেরও সেই বিখ্যাত বলটি নিলামে তুলতে চান।
তবে বলটির জন্য সর্বোচ্চ ২.৪ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এলেও তা সংরক্ষিত মূল্য (রিজার্ভ প্রাইস) স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে বলটি বিক্রি হয়নি এবং এখনও আলি বিন নাসেরের কাছেই রয়েছে।





