১১ বছরে লিটনের ‘প্রথম’ ফিফটি!

অভিষেকটা হয়েছিল মিরপুরেই। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ৮ রান করে ফিরেছিলেন লিটন দাস। এরপর কেটে গেছে ১১ বছর। জাতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন, সেঞ্চুরিও করেছেন একাধিক। কিন্তু মিরপুরের ওয়ানডে ক্রিকেট যেন বারবারই তাকে আটকে রেখেছিল এক অদৃশ্য দেয়ালে।

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বহু প্রতীক্ষিত ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটন। ইনিংসের এক পর্যায়ে পায়ের পেশিতে টান লেগে ৪৮ রানে মাঠ ছাড়লেও শেষ দিকে আবার ব্যাট হাতে ফেরেন তিনি। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে স্পর্শ করেন অর্ধশতকের মাইলফলক।

শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। মিরপুরে এটা যেমন লিটনের প্রথম ফিফটি, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম।

শেরেবাংলায় ওয়ানডে ক্রিকেটে লিটনের পরিসংখ্যান ছিল বিস্ময়করভাবে হতাশাজনক। এই ম্যাচের আগে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি করতে পারেননি তিনি। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে ১৭ এর সামান্য বেশি গড়ে করেছিলেন মাত্র ৪৩৯ রান। ছিল চারটি ডাকও।

এমনকি ক্যারিয়ারে প্রায় ৮৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা লিটন মিরপুরে ৭০ স্ট্রাইক রেটও স্পর্শ করতে পারেননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়ে লিটন যেন সব সমীকরণই পাল্টে দিয়েছেন। অর্ধশতক করার দিনে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৪।

সাম্প্রতিক সময়েও মিরপুরে ব্যাটে আক্ষেপে পুড়েছেন লিটন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও ফিফটির দেখা পাননি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই অর্ধশতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণতার অবসান।

বাংলাদেশ যখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন লিটন। দুজনের ৯২ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পরে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। তবে স্বস্তির বিষয়, মিরপুরে অধরা ফিফটিটা শেষ পর্যন্ত পেলেন লিটন।