ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর জন্য দ্বিতীয় ধাপের প্রক্রিয়া চলছে। তাকে ফেরত পাঠাতে ইতোমধ্যে সম্মত হয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন রাতে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর। গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তাকে ফেরত পেতে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র আরব আমিরাতে পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই অনুরোধপত্রের আলোকে বেনজীরকে ফেরত দিতে সম্মত হয় দেশটি। এরই অংশ হিসেবে বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে সম্প্রতি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও হস্তান্তর পদ্ধতিসংক্রান্ত নির্দিষ্ট চারটি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ। সেই চারটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
চলতি সপ্তাহে সেসব নথি চূড়ান্ত করে দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে। এরপর দুবাই পুলিশ ও সে দেশের কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে বেনজীরের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) রেজাউল করিম বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সময়সীমা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দুবাই পুলিশের কাছে আমরা যে চিঠি দিয়েছিলাম, সেটির জবাবে তারা কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুদকের মুখপাত্র ও উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বেনজীর। সেই মামলাসংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া স্পষ্টীকরণসহ কয়েক বিষয়ে জানতে চেয়েছে দুবাই পুলিশ। এ ক্ষেত্রে দুদকের অংশটুকুর স্পষ্টীকরণ ব্যাখ্যা প্রস্তুত করেছেন দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা। দু-এক দিনের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাযথ পদ্ধতিতে দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসংক্রান্ত মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারসংক্রান্ত মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে দুদক। এটির বিচার চলছে। অপর ৫ মামলার তদন্ত চলমান। এর মধ্যে বেনজীরের স্ত্রী জীসান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক তিন মামলায় বেনজীর আহমেদকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। অপর দুই মামলা হলো ছয় কোটি টাকা ঘুষ দাবি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত। এই ৬টি মামলার মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা সূত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ।
ওই মাসের বেনজীর আহমেদকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধসহ মামলাটির নথিপত্র দুটি ভাষায় (ইংরেজি ও আরবি) অনুবাদ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর আগে জাতীয় সংসদে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করার কথা জানিয়েছিলেন। এর আগে দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবিতে অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। সেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় আইনি নথি সংযুক্ত ছিল। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দিয়েছে দুবাই পুলিশ। বর্তমানে বেনজীর দুবাইয়ের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।





