অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ঠিক কবে নাগাদ চালু হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যে কারণে গ্যাস সংকটের দুর্ভোগ সহসা দূর হচ্ছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রূপান্তরিত গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিএল) একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন কোম্পানিএক্সিলারেট এনার্জি বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়ে এসেছে। তারা শুক্রবার একটি ডেটলাইন ঘোষণার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। বলেছিলেন শুক্রবার (২৪ জুলাই) তারা জানাতে পারবে কবে নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে। তারা পরীক্ষা করে দেখে বলেছে বিষয়টি সময় সাপেক্ষ মনে হচ্ছে। আমরা আংশিকভাবে হলেও চালুর আশা করেছিলাম, কিন্তু মনে হয় তা সম্ভব হচ্ছে না। আরও চার-পাঁচ দিন সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপরেশন অ্যান্ড মাইনন্স) প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, এক্সিলারেট এনার্জির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। সে কারণে ঠিক কবে নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গত ২১ জুলাই বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত বন্ধ করতে গিয়ে বয়লার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এফএসআরইউ মেরামত করতে বিদেশ থেকে প্রকৌশলীদের আনা হয়েছে।
এলএনজি বোঝাই জাহাজ দূরে ছিল বলে কিছুটা রক্ষা হয়েছে। না হলে বিশাল ঝামেলা হতে পারতো বলে বুধবার এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এমপি।
আরপিজিসিএল সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় প্রকৌশলীরা পরীক্ষা করলেও ত্রুটির কারণ শনাক্ত বা সমাধান করা যায়নি। সেকারণে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন কোম্পানিএক্সিলারেট এনার্জি বিদেশি বিশেষজ্ঞ আনছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে ত্রুটির ধরণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং মেরামতের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
বর্তমানে প্রতিশ্রুত গ্রাহকের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫৫০০ মিলিয়নঘন ফুট। যার বিপরীতে প্রায় ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদা বিবেচনায় কমবেশি ২৬০০ মিলিয়ন সরবরাহ দেওয়া হতো। একটি ভাসমান টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। যে কারণে কয়েকদিন ধরেই ভয়াবহ গ্যাস সংকট বিরাজ করছে।
খোদ রাজধানীর অনেক এলাকায় ৩ দিন ধরে গ্যাস মিলছে না দিনের বেলায়। মধ্যরাতে কিছুটা সময়ের জন্য এলেও সকালেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে অনেকে বাসায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে, হোটেল থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। লাইনের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় সংকট বেড়েছে। অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেকে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে বলে ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করেছেন।
এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬৪৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। ঘাটতি সামাল দিতে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। এ জন্য দু’টি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১১’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
বাড়ন্ত চাহিদার বিপরীতে কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। চাইলেও সহসা আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে, যা খুবই সময় সাপেক্ষ। যে কারণে আসছে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।





