সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি রিল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও সাইবার বুলিংয়ের মুখে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর দাঁড়িয়েছেন দেশ-বিদেশের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। এবার সেই সকল মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই প্রধান শিক্ষিকা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ‘বিউটি পাল’ নামক তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, সুশীল সমাজ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপকগণ এবং সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
বিউটি রাণী পাল আরও লিখেন, ‘আপনারা গান, কবিতা, লেখা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমের মাধ্যমে যে প্রতিবাদ, সংহতি ও নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন, তা আমাকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব।’
জাতীয় সংসদের সদস্যের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের নিকট বিনীতভাবে আবেদন জানাই—দ্রুত শিক্ষক সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকই সাইবার বুলিং, মানহানি বা অনলাইন হয়রানির শিকার না হন এবং শিক্ষক সমাজ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
প্রসঙ্গত; গত ২৩জুলাই দুপুরের দিকে বিউটি রাণী পাল নিজের ফেসবুক আইডি থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে একটি বাংলা গানের সঙ্গে তাকে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় হাঁটতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন ও আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ’ নামের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে বিউটি রাণী পাল জিডি করেন।
গত ২৬ জুলাই সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশাদ বার্তা২৪.কমকে বলেছিলেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সরকারি যে নির্দেশনা রয়েছে তা লঙ্ঘন হয়েছে কি না। হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে ওই দিন সিলেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ গগণমাধ্যমকে জানান, গান গাওয়া বা ভিডিও করা অন্যায় নয়।
প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর ২৭ জুলাই প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে শিক্ষা বিভাগ।





