বিশ্বকাপ-দুশ্চিন্তা শেষ বাংলাদেশের

এক দল মাঠে নেমেছিল নিজেদের বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে, আর তাদের জয়েই স্বস্তি ফিরল আরেক দলের শিবিরে। আয়ারল্যান্ডকে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯২ রানে হারিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। সেই জয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপর। আর ক্যারিবীয়দের সেই ধাক্কাই বাংলাদেশের বিশ্বকাপের পথ প্রায় পরিষ্কার করে দিয়েছে।

আফগানিস্তানের জয়ের আগে বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিটের সমীকরণে কিছুটা হলেও আশা বেঁচে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে আফগানিস্তানের জয় সেই হিসাব অনেকটাই বদলে দিয়েছে। এখন বর্তমান র‌্যাঙ্কিং ও বাকি ম্যাচের হিসাব বলছে, বাংলাদেশকে টপকে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ কার্যত হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, দুই স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি খেলবে ২০২৭ বিশ্বকাপে। দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে থাকায় স্বাগতিকদের বাদ দিয়ে নবম অবস্থানে থাকা দলও সরাসরি মূল পর্বে জায়গা পাবে।

সেখানেই বাংলাদেশের অবস্থান বেশ শক্ত। বর্তমান র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৮৩, অবস্থান নবম। তাদের ঠিক পেছনে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭। অর্থাৎ দুই দলের ব্যবধান ছয় পয়েন্ট।

শুধু পয়েন্টের ব্যবধানই নয়, বাকি ম্যাচের সংখ্যাও বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে। কাট-অফ ডেট ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে রয়েছে আর মাত্র দুটি ওয়ানডে। দুটিই ভারতের বিপক্ষে। সর্বোচ্চ ফল পেলেও ওই দুই ম্যাচ থেকে চার পয়েন্টের বেশি পাওয়ার সুযোগ নেই তাদের।

বিসিবির এক কর্মকর্তা তাই বাংলাদেশের অবস্থানকে বেশ নিরাপদ বলেই মনে করছেন। তার ভাষায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান ছয় পয়েন্ট। কাট-অফের আগে ক্যারিবীয়দের দুটি ম্যাচ থাকলেও সেখান থেকে সর্বোচ্চ চার পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নিয়মের হিসাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে।

তবে বাংলাদেশের জন্য আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তার আগে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা রয়েছে। সিরিজটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এই সিরিজ হলে বাংলাদেশের সামনে অবশ্য ঝুঁকিও থাকবে। ভারত বর্তমানে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল। ফলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ র‌্যাঙ্কিং পয়েন্ট হারাতে পারে। কিন্তু বর্তমান সমীকরণে সেই হারও বাংলাদেশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিচে নামিয়ে দেওয়ার মতো হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আর এখানেই আফগানিস্তানের জয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আয়ারল্যান্ড যদি পাঁচ ম্যাচের সিরিজটি ৪-১ বা ৫-০ ব্যবধানে জিততে পারত, তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে নতুন করে সুযোগ তৈরি হতো। ভারতের বিপক্ষে তাদের প্রথম দুটি ওয়ানডেতে জয় এলে সেরা নয় দলের মধ্যে ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত।

কিন্তু প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের জয় সেই সমীকরণ ভেঙে দিয়েছে। আফগানিস্তান নিজেরাই সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঠেলে দিয়েছে বাছাইপর্বের আরও কাছে।

ক্যারিবীয় ক্রিকেটের জন্য এটি নতুন কোনো দুঃস্বপ্নও নয়। সর্বশেষ দুই ওয়ানডে বিশ্বকাপেই সরাসরি জায়গা করে নিতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৯ সালে বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেললেও ২০২৩ সালে সেই বাছাইপর্বেই থেমে যায় তাদের পথ।

এবারও সেই একই শঙ্কা সামনে। আর অন্যদিকে বাংলাদেশ বসে আছে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায়। মাঠে না নেমেও আফগানিস্তানের একটি জয়ের সুবাদে তাদের বিশ্বকাপের সমীকরণ অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।

৩০ সেপ্টেম্বরের কাট-অফ ডেট পেরোলেই মিলবে আনুষ্ঠানিক হিসাব। তার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য শেষ মুহূর্তের লড়াই!