ইউরোপে অভিবাসন নীতি নিয়ে নজিরবিহীন সতর্কতামূলক বিবৃতি দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। রাজনৈতিকভাবে ডানপন্থী ও বামপন্থী ঘরানার এ দুই নেতার অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ঠেকানোর যৌথ বিবৃতি ইউরোপের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে মেলোনি ও ফ্রেডেরিকসেন বলেন, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে ইউরোপীয় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে অপরাধ বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি সেবার ওপর চাপ বাড়ছে। নাগরিকদের আস্থাও সরকারের ওপর কমছে।
এ দুই নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইউরোপ ও এর মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়ে তাদের অবস্থান এক। মেলোনি ইতালির ডানপন্থী দল ব্রাদার্স অব ইতালির নেতা।
অন্যদিকে ফ্রেডেরিকসেন ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা। দুই দেশের সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তাদের মধ্যে এ ঐক্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বরাবর অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর থাকলেও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেনও এবার অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপের বাইরে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিবৃতিতে এ দুই নেতা জানান, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে রিটার্ন সেন্টার বা ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের মধ্যে কেউ সহিংস অপরাধ, মাদক ব্যবসা বা যৌন সহিংসতায় জড়ালে বিষয়টি আরও গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও স্পেনের উত্তর আফ্রিকীয় ছিটমহল সেউতাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনা ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক আবার উসকে দিয়েছে। এর পেছনে অভিবাসী বিরোধী ডানপন্থী দলগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আগস্টের শুরুতে কয়েক দিনে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় পৌঁছে। তাদের বেশির ভাগই সাঁতরে সেখানে পৌঁছান। পরে সবাইকে দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর ইতালি স্পেনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। পরে স্পেনও ইতালি থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহৎ রাজনৈতিক গ্রুপ ডানপন্থী ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির (ইপিপি) নেতা ম্যানফ্রেড ভেবারও ইইউর বাইরে ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি আফ্রিকায় দ্রুত রিটার্ন হাব স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা করবে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে পারে ইইউ।
তবে ইইউর বাইরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাকে উদ্বেগজনক বলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, ইইউ সদস্যদেশগুলো তাদের মানবাধিকারবিষয়ক দায়িত্ব অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না।





