বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন ঢাকা সফররত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। গতকাল অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য স্বাভাবিকীকরণ, ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে নৈশভোজেও অংশ নেন প্রতিনিধিরা।
সচিবালয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এজন্য বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিশেষ অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্যকে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আগামী কয়েক মাসে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের ভিসা জটিলতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত যাতায়াতকারীদের কয়েক মাস পরপর নতুন করে ভিসার আবেদন করা বাস্তবসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজতর ভিসা ব্যবস্থা চালু করতে দুই দেশের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বৈঠক করে সিআইআই প্রতিনিধিদল। সেখানে বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে অবকাঠামো বিনিয়োগ ও অর্থায়ন এবং নতুন প্রযুক্তি খাতে দুটি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একটি টাস্কফোর্স অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ও বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করবে। অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ব্যাটারি, হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হাইস্পিড রেল ও সোলার সেল উৎপাদনের মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতার পথ খুঁজবে। সিআইআই মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বলেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্য বিনায়ক চ্যাটার্জি বলেন, অবকাঠামো বিনিয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি খাতে অংশীদারত্ব বাড়াতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আগ্রহী।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক : বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে বৈঠক করে। সেখানে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ মনে করে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, ব্যবসায়ী পর্যায়ের নিবিড় সম্পৃক্ততা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বৈঠক করেছেন।





