সার্ককে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং এ অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

রোববার (২৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের বিদায়ী সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতে সার্ক প্রক্রিয়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং অবিচল অঙ্গীকারের জন্য সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সার্ক মহাসচিব। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও যৌথ উন্নয়নের প্রধান আঞ্চলিক মঞ্চ হিসেবে সার্কের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মহাসচিব গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কত্ব ও উদ্যোগের ফলেই সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি সংস্থাটি গঠনে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী সার্ক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সংলাপ ও বাস্তব সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার চেতনাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক সার্কের একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। সেখানে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বাস্তব সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদে সার্কের কার্যক্রম সচল রাখা ও এগিয়ে নিতে মহাসচিবের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ধারাবাহিক কর্মসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখায় তাঁর নিষ্ঠার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

সার্ক কৃষি কেন্দ্র ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থার আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও উল্লেখ করেন মহাসচিব। সার্ক, এর বিশেষায়িত সংস্থা ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে অর্থনৈতিক একীকরণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মহাসচিব সার্কের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি সার্কের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার উদ্দেশ্য এগিয়ে নিতে ও আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করতে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।