যে গ্রামের নারীরা শোনেননি স্যানিটারি ন্যাপকিনের নাম

কিশোরগঞ্জের নিকলি ইউনিয়নের দুর্গম হাওরগ্রাম গোড়াদিঘা। নৌকাই যেখানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। কয়েক মাস আগেও গ্রামের অনেক নারী ও কিশোরী স্যানিটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে জানতেন না। মাসিকের সময় পুরোনো কাপড় ও তুলা ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়তেন অনেকে।

এই পরিস্থিতিতে মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ‘নিরাপদ পিরিয়ড, সবার অধিকার’ নামে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। সান কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিকল্পনায়, ওএনজেড সলিউশনসের সহযোগিতায় এবং স্টেসেইফ স্যানিটারি ন্যাপকিনের উদ্যোগে কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়।

হাওর এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নৌকাকে ব্যবহার করেই শুরু হয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম। গ্রামের নারীদের একত্রিত করে আয়োজন করা হয় বিশেষ মেলা। সেখানে তিনটি নৌকায় নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয় এবং বিনামূল্যে তিন মাসের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় ফার্মেসির মালিক ও কর্মীদেরও মাসিক স্বাস্থ্য ও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্কুলে সচেতনতামূলক ক্লাস, উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোরীদের বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়।

napkin

উদ্যোক্তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে স্থানীয়ভাবে ‘স্টেসেইফ গার্ল’ গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে নারীরা বিনামূল্যে ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন এবং পরবর্তী সময়ে স্বল্পমূল্যে তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

কর্মসূচির কয়েক মাস পর স্থানীয়দের ভাষ্য, গোড়াদিঘায় মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কিশোরী স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। স্থানীয় ফার্মেসিতেও এখন ন্যাপকিন পাওয়া যাচ্ছে।

গোড়াদিঘার এক স্কুলছাত্রী ইসমা জানায়, আগে মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাদের তেমন ধারণা ছিল না। সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা এখন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছে।

আরেক শিক্ষার্থী কাজেফা আক্তার জানায়, আগে মাসিকের সময় কাপড় ব্যবহার করলেও এখন স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ন্যাপকিন ব্যবহার করছে তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবদুল মোতালিব বলেন, আগের তুলনায় গ্রামের নারীদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। পল্লী চিকিৎসক আনোয়ার হোসেনও জানান, মাসিক ও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের বিষয়ে এখন অধিকাংশ নারী আগের চেয়ে বেশি সচেতন।

স্টেসেইফের হেড অব মার্কেটিং নয়ন রায় বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের কাছে শুধু পণ্য পৌঁছে দেওয়া নয়, মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।