নোয়াখালীকে একটি স্বাধীন ৯ম প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে মানববন্ধন করেছে গ্রেটার নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানি। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে এই মানববন্ধনে দেশটিতে বসবাসরত বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের (নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ইত্যাদি) সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় নোয়াখালী বিভাগের দাবিতে বক্তব্য রাখেন, সভাপতি শওকত আলি মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক আবু নাহিয়ান পিনক, সহসাধারণ সম্পাদক ও গ্রেটার নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানির প্রতিষ্ঠাতা ফয়েজ আহমেদ, সহসভাপতি মঞ্জুরুল হাই লেলিন, তসলিম ইসলাম, মোহাম্মদ আলী জীবন, দেলোয়ার হোসেন রাজ, কোষাধ্যক্ষ হাসান ভূঁইয়া, শাহ আলম, আবু তাহের, আব্দুল মান্নান, কামরুল হাসান, আবুল হাসেম উল্লাহ, খন্দকার আব্দুল হাদী, ওমর ফারুক, আবু তোহা প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও নোয়াখালী জেলাকে নিয়ে একটি বিভাগ করার করার দাবি কোনো ব্যক্তিবিশেষের দাবি নয়। এটি এখন দেশের বাইরে বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীদেরও গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল দেশের প্রাচীনতম জেলা নোয়াখালীকে কুমিল্লার সঙ্গে যুক্ত করে কুমিল্লা বিভাগ করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ এবং জার্মানি প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই ষড়যন্ত্র কখনোই মেনে নেবে না। নতুন বিভাগ করতে হলে সবার আগে নোয়াখালীকেই ৯ম প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে বাস্তবায়ন করার দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক উন্নয়নে জেলা নোয়াখালীর অবদান অনস্বীকার্য । ঐতিহ্যবাহী এই জেলাটি বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির প্রায় ৪ ভাগের এক ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়াও, ৭ লক্ষাধিক প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলার প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনসহ অসংখ্য জ্ঞানী-গুণীর জেলা নোয়াখালীই ৯ম প্রশাসনিক বিভাগের যোগ্য দাবিদার।
মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান করে গ্রেটার নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এ সময় রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ জুলকার নাইনের অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মি. রাহাত বিন জামান। এ সময় তিনি “নোয়াখালী বিভাগ চাই” দাবিটি বাংলাদেশ সরকার বরাবর পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।





