জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার চেয়ে এবারের সফরকে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী মাসে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু নিজের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সাথে চলমান বিতর্ককে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি মেয়র মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করে নিউইয়র্কে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছিলেন। এর জবাবে এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের ভাষণেই এর কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূতদের মতে, জাতিসংঘে দেওয়া এই বক্তব্য মূলত জাতিসংঘের চেয়ে ইসরায়েলের ভোটারদের উদ্দেশ্য করেই দেওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানি হুমকি ও নিউইয়র্কের মেয়রের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে দোদুল্যমান ভোটারদের নিজের পক্ষে টানাই এখন নেতানিয়াহুর প্রধান কৌশল।
এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে নেতানিয়াহুর কোনো বৈঠক হচ্ছে না, যা ইসরায়েলি রাজনীতিতে তার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক একা হয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান যুদ্ধ কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে নেতানিয়াহুর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত এই সফরের পর ভাষণে শেষ করেই তিনি দেশে ফিরে যাবেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং মিত্র দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখাটাই এখন ইসরায়েলের এই দীর্ঘতম মেয়াদী প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: রয়টার্স





