ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো কোনও বিদেশি এয়ারলাইনসের বাণিজ্যিক ফ্লাইট তেহরানে অবতরণ করেছে।
ইরাকের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ইরাকি এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট বৃহস্পতিবার ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদেশি কোনও বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার ফ্লাইট তেহরানে অবতরণের এটিই প্রথম ঘটনা। ইরাকি এয়ারওয়েজকে ইরানে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা থেকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার পর এই বিমান চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরাকের নাজাফ শহর থেকে আসা ইরাকি এয়ারওয়েজের একটি বিমান তেহরানে অবতরণ করছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এটি যাত্রী নিয়ে যাওয়া ও ফিরিয়ে আনার অর্থাৎ দ্বিমুখী (রাউন্ড ট্রিপ) ফ্লাইট।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সঙ্গে বিমান যোগাযোগ পরিচালনা করা বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর জন্য জটিল। তবে ইরাকি এয়ারওয়েজকে ইরানে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত মাসে ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইরানি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ইরাকি এয়ারওয়েজকে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা তখন জানিয়েছিলেন, এই ছাড় মূলত ইরান ও ইরাকের নাজাফের মধ্যে যাতায়াতকারী ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য।
ইরান ও ইরাকের নাজাফ শিয়া মুসলিমদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থান। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ধর্মীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী দুই দেশের বিভিন্ন পবিত্র স্থানে যাতায়াত করেন। ফলে তাদের যাতায়াত সহজ করতে সরাসরি বিমান যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধের পর আকাশ যোগাযোগে বড় পরিবর্তন
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং আকাশপথের ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইনস ইরানে তাদের ফ্লাইট বন্ধ বা স্থগিত করে।
এর ফলে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যুদ্ধের পর প্রথম বিদেশি বাণিজ্যিক ফ্লাইট হিসেবে ইরাকি এয়ারওয়েজের তেহরানে অবতরণ তাই ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে সীমিত পরিসরে হলেও নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে ইরাকি এয়ারওয়েজের এই ফ্লাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের আওতায় পরিচালিত হয়েছে। ফলে এটিকে ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পুরোপুরি ফিরে আসার লক্ষণ হিসেবে দেখার সুযোগ এখনই নেই।
তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতকে গুরুত্ব
ইরাকি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইরাকি এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনার মূল লক্ষ্য ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নাজাফ ও ইরানের ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই বিমান যোগাযোগ কাজে আসবে।
যুদ্ধের কারণে স্থল ও আকাশপথে যাতায়াতের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ তৈরি হওয়ায় তীর্থযাত্রীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। ইরাকি এয়ারওয়েজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিশেষ ছাড় সেই পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে ফ্লাইটটির অবতরণের দৃশ্য দেখানো হলেও এতে কতজন যাত্রী ছিলেন বা পরবর্তী সময়ে কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানে বিদেশি কোনও বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসের প্রথম ফ্লাইট অবতরণের ঘটনাটি তাই ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা





