দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ’ উদ্যোগের আওতায় সরকার এ বছরই একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বর্তমান সরকারের চার বছর মেয়াদে এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সারা দেশে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে বৃহৎ পরিসরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘Lived Experiences to Meaningful Change: Promoting Clinical Social Work Practice in Bangladesh’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ।
বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা পাবনা মানসিক হাসপাতালের মতো টারশিয়ারি স্তরের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে মূলত মারাত্মক বা জটিল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা সেবা পেয়ে থাকেন। কিন্তু এর বাইরে উদ্বেগ (অ্যাংজাইটি), দীর্ঘমেয়াদী হতাশা (ডিপ্রেশন) ও মানসিক চাপে ভোগা রোগীর সংখ্যা ১০ থেকে ৩০ গুণ বেশি। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রধান অন্তরায় হিসেবে প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব এবং বিদ্যমান জনবলকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, “ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের পেশাগত দক্ষতাকে কাজে লাগাতে আমরা প্রস্তুত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত (মাল্টিসেক্টরাল) উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা হবে।”
তিনি বর্তমান সময়ের কিছু উদীয়মান সংকট চিহ্নিত করে বলেন, “কৈশোরকালীন মানসিক স্বাস্থ্য (অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথ), ডিজিটাল আসক্তি এবং পারিবারিক বিচ্ছেদ (প্যারেন্টাল সেপারেশন)—এসব বিষয় এখন সমাজের বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ডিভাইস আসক্তি মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।” এছাড়া সন্তান জন্মদানের আগে ও পরে মায়েদের ‘পেরিনেটাল ও পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ নিয়ে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্যসেবায় গতানুগতিক বায়োমেডিকেল দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে ‘বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল মডেল’ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানুষের শারীরিক গঠনের চেয়ে সামাজিক পরিবেশ ও দৃষ্টিভঙ্গিই অনেক সময় মানসিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বছর বাজেটের আওতায় মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার বাস্তবায়ন শিগগিরই শুরু হবে।
সেমিনারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট), ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।





