অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম মরুভূমিতে মাকড়সার মতো দেখতে বিশাল এক গর্তের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘স্পাইডার ক্রেটার’ নামের এই গর্তের ছবি তুলেছে নাসার ল্যান্ডস্যাট-৯ স্যাটেলাইট। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কোটি কোটি বছর আগে উল্কাপাতের ফলে তৈরি হয়েছিল অদ্ভুত আকৃতির এই গর্ত।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিম্বার্লি অঞ্চলে অবস্থিত গর্তটি এতটাই দুর্গম এলাকায় যে আকাশ থেকে দেখলেই এর পূর্ণাঙ্গ আকৃতি স্পষ্ট বোঝা যায়। ডিম্বাকৃতির গর্তটি প্রায় ৮ বাই ৭ মাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর কেন্দ্রে থাকা মাকড়সার মতো অংশটির বিস্তৃতি প্রায় আড়াই মাইল।
স্যাটেলাইটের উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবি ও খনিজ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সেখানে প্রাচীন উল্কাপাতের প্রমাণ পেয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয়প্রক্রিয়ার কারণে গর্তটি বর্তমানের অদ্ভুত আকৃতি ধারণ করেছে। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং প্রাচীন মহাজাগতিক আঘাতের প্রভাব বুঝতে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ঠিক কত আগে স্পাইডার ক্রেটার তৈরি হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ৬০ কোটি থেকে ৯০ কোটি বছর আগে সেখানে উল্কাপাত হয়েছিল। গর্তটির কেন্দ্রে তাঁরা ‘শ্যাটার কোন’ নামে বিশেষ ধরনের ফাটলও শনাক্ত করেছেন। পাথরের ভেতর দিয়ে তীব্র শকওয়েভ প্রবাহিত হলে সাধারণত এ ধরনের গঠন তৈরি হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক বিজ্ঞানী ক্রিস কার্কল্যান্ডের মতে, নর্থ পোল ডোমে আঘাতের ফলে দীর্ঘস্থায়ী ফাটলব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। প্রাচীন পৃথিবীতে এ ধরনের আঘাত পাথর ও আদি মহাসাগরের মধ্যে রাসায়নিক আদান-প্রদানে প্রভাব ফেলতে পারত। এর মাধ্যমে খনিজের পরিবর্তন ঘটার পাশাপাশি অণুজীবের জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীনকালে এ ধরনের মহাজাগতিক আঘাতের তীব্র তাপে জিরকন খনিজের কিছু অংশ আংশিকভাবে পুনরায় কেলাসিত হয়েছিল। ফলে স্পাইডার ক্রেটারের মতো ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রাচীন পৃথিবীর পরিবেশ ও বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
তথ্যসুত্র- ডেইলি মেইল





