মিয়ানমারের বন্দি নেত্রী আউং সান সুচির ছেলে কিম আরিস দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো তার মায়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় কিম আরিস নিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী কিম আরিস তাঁর আবেগঘন বার্তায় জানান, আজ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর আমি অবশেষে আমার মা অং সান সুচির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। আবার তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাওয়াটা কতটা অর্থবহ, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, দেশটির রাজধানী নেইপিদোতে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন সুচি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই তাঁকে সেখানে রাখা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থানরত কিম আরিস ঠিক কীভাবে তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ১৯৯১ সালে মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করা সুচির ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার বার্তার সঙ্গে বেশ কিছু ছবি যুক্ত করেছেন, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি লন্ডনে অবস্থিত মিয়ানমার দূতাবাসের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।
সুচির মুক্তি ও মায়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশ্বজুড়ে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আরিস বলেন, আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা আমার মা এবং আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের কণ্ঠস্বরই এই মুহূর্তটিকে বাস্তবে সম্ভব করতে সাহায্য করেছে।
তবে দীর্ঘ দিন পর এই ফোনালাপের সুযোগ হলেও সুচির বর্তমান বয়স ও শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিন্তু আমার মায়ের বয়স ৮১ বছর এবং তিনি এখনও অন্যায়ভাবে বন্দি রয়েছেন। কেবল একটি কথোপকথন কোনো নিয়মিত পারিবারিক যোগাযোগের সুযোগ হতে পারে না।





