মার্চে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির গণশুনানি

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আগামী মার্চে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য গণশুনানি করতে চায়। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব আমলে নিয়ে ২১ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত টানা চারদিন গণশুনানি চলবে বলে জানা গেছে।

দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য কমিশনে প্রস্তাব জমা দিয়েছে। একইসঙ্গে গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলের সঞ্চালন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাবও জমা দিয়েছে।

আমদানিকৃত এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পেট্রোবাংলা। গড়ে ১১৭ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। একচুলা ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা, দুই চুলা ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০০ টাকা করার প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। এর বাইরে শিল্প, সিএনজি, বিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ গ্যাসের দামও বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল বিতরণ কোম্পানিগুলোর।

নজিরবিহীন উচ্চমূল্যের এই প্রস্তাবটি গত ১৭ জানুয়ারি কমিশনে জমা দেয়। বাখরাবাদ তার প্রস্তাবে আবাসিকে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি ঘনমিটারের বিদ্যমান মূল্য ১২.৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭.৩৭ টাকা, সিএনজি প্রতি ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৬.০৪ টাকা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯.৯৭ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৭.০২ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৫ টাকা থেকে ৩০.০৯ টাকা, চা শিল্পে ১০.৭০ টাকা বাড়িয়ে ২৩.২৪ টাকা করার প্রস্তাব করেছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, এলএনজি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গ্যাসে ভর্তুকি বেড়ে গেছে। এই চাপ সামলাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩০ জুন গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছিল বিইআরসি কর্তৃপক্ষ। সে সময় বাসাবাড়ির দুই চুলার খরচ ৮০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৯৭৫ টাকা আর এক চুলার খরচ ৭৫০ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রভাতনিউজ/এনজে