কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়া আবারো ঝুলে গেছে

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারের আকাশ থেকে কালো মেঘ যেন সরছেই না! নানা প্রতিবন্ধকতায় বার বার আটকে যাচ্ছে এই প্রক্রিয়াটি। দীর্ঘ ৩ বছরেরও বেশি সময় কলিং বন্ধ থাকার পর দু’দেশের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আবারো চালুর ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যায়ে এসে ঝুলে গেছে কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া।

এমওইউ চুক্তি সম্পন্নসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া যখন সম্পন্ন হওয়ার পথে তখনই জটিলতার সৃষ্টি। বিষয়টি তীরে এসে তরী ডোবার মতো।

আজ শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কলিং ভিসা সম্পর্কে আশাবাদী হবার মতো কোনো খবর নেই বললেই চলে। আছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। এর পরে কী হবে বা কী হতে চলেছে?

প্রক্রিয়াটি যেন যেখান থেকে শুরু হয়েছিল সেখানেই আটকে আছে।

মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান ২৫ ও ২৫০ এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক প্রেরণে সম্মতি দিয়ে চিঠি দেয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী মো: ইমরান আহমেদ এই সিন্ডিকেট সিস্টেমের বিরোধিতা করে আবার এই চিঠির জবাব দেন। মন্ত্রীর এই চিঠির পরই কলিংয়ের চলমান প্রক্রিয়া মূলত স্থবির হয়ে যায়।

গত ১৯ ডিসেম্বর এমওইউ চুক্তি সইয়ের পর শুধু বাকি ছিল কোন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো হবে – সেই পদ্ধতিটি চূড়ান্ত করা। আর এই পদ্ধতি সহজ করার জন্য বাংলাদেশের আমন্ত্রণে মানবসম্পদ মন্ত্রী সারাভানান ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসার কথা ছিল। পরে আর আসা হয়নি এমনকি মন্ত্রী এম সারাভানান কবে কখন আসবেন, সে বিষয়ে আর বিস্তারিত জানা যায়নি।

শ্রম বাজার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই অচলাবস্থা চলতে থাকলে আবারো দীর্ঘসূত্রতায় চলে যাবে শ্রমবাজার। এমনকি হাতছাড়াও হতে পারে বিশাল এ শ্রমবাজারটি।

জানা গেছে, বাংলাদেশের পরিবর্তে ইন্দোনেশিয়া থেকে কর্মী নেয়ার চেষ্টা করেছে মালয়েশিয়া। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হননি।

সিন্ডিকেটের অভিযোগে ২০১৯ সালে যে সরকার কলিং স্থগিত করেছিল, সে সরকার এখন ক্ষমতায় নেই। আবার এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে সেই সরকার কতদিন ক্ষমতায় থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ মালয়েশিয়ার সরকার যে কোনো সময় নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হওয়ার নজির আছে।

মন্ত্রী সারাভানানের সিন্ডিকেটের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করে তার নিজ দেশেও তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন আর অন্যদিকে সিন্ডিকেটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন মন্ত্রী ইমরান আহমেদ। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, সারাভানান হয়তো তৃতীয় কোনো পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য সিন্ডিকেটে সম্মতি দিয়েছেন। আর এই অভিযোগের তীর বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ও মালয়েশিয়ায় সিটিজেনপ্রাপ্ত দাতু আমিনের দিকে।

সর্বশেষ সাংবাদিকদের সাথে এক ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো: ইমরান আহমেদ বলেন, আমি জানতে পারলাম একটি মহল আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তারা মনে করছে, আমি এর পক্ষে ওর পক্ষে, এটা করছি ওটা করছি। আসলে আমি কারো পক্ষেই কোনোকিছু করছি না। আমি নিরপেক্ষ কাজ করছি। এজেন্সিগুলো যাতে ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারে এবং কর্মী পাঠাতে পারে, সে বিষয়ে একটা স্বাধীন ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছি।