মোহাম্মদপুরে রিকশা থামিয়ে অস্ত্রের মুখে প্রকাশ্যে সর্বস্ব লুট

ঢাকার মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে চলন্ত রিকশা থামিয়ে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ঘিরে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ‎পরে ভুক্তভোগী থানায় গেলে মামলা না নিয়ে মোবাইল হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দেন ডিউটি অফিসার। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের।

সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে মোহাম্মদপুর চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের এক নম্বর গেইটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী যুবকের নাম সিদ্দিক শ্রেষ্ঠ। তিনি ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দিনের আলোতে পথচারীদের সামনে প্রকাশ্যে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‎‎ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলো মোহাম্মদপুর বাঁশ বাড়ি এলাকার শীর্ষ ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং গ্রুপ ‘দে ধাক্কা’ গ্রুপের মূলহোতা রাব্বি ওরফে ‘চৌদ্দ রাব্বি’ ও আগুন ওরফে ‘ধাক্কা আগুন’। তাদের নেতৃত্বে এ চক্রের সদস্যরা বাঁশবাড়ি, বাসস্ট্যান্ড ও চাঁন মিয়া হাউজিং এবং শিয়া মসজিদ এলাকায় ছিনতাই করে।

প্রকাশ্যে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে একটা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চাঁন মিয়া হাউজিং ১ নম্বর গেইটের উল্টো পাশ দিয়ে আসছে। হঠাৎ কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি রিকশার সামনে গিয়ে চাকার সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় আশপাশে আগে থেকেই অবস্থান করা মুখে মাস্ক পরা আরও চারজন সেখানে যোগ দেয়। তাদের মধ্যে দুইজন রিকশায় উঠে ধারালো ছুরি দেখিয়ে যাত্রীকে ভয় দেখায় এবং তার মোবাইল ফোন, টাকা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা ব্যাগ তল্লাশি করে এনআইডি কার্ড, ব্যাংকের এটিএম কার্ডসহ সবকিছু নিয়ে নেয়। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ৫টা ৩৭ মিনিট ৪ সেকেন্ড থেকে ৫টা ৩৮ মিনিট ২১ সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ঘটনাটি ঘটে এবং তারা মোবাইলের পাসওয়ার্ড পর্যন্ত জেনে নেয় বলে জানা গেছে।

‎ভুক্তভোগীর বাবা নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, আমার ছেলে সিদ্দিক শ্রেষ্ঠ কোচিং শেষে রিকশাযোগে বাসায় ফিরছিল। এ সময় চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের ১ নম্বর গেইটের সামনে আসতেই তাকে কয়েকজন ঘিরে ধরে মোবাইল, মানিব্যাগ ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আমি থানায় গিয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ আমাকে মোবাইল হারানোর জিডি করতে বলে।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে কলেজে এইএসসির শিক্ষার্থী। সে এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তার সঙ্গে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স মোবাইল, একটি দামি এয়ারবাডস, মানিব্যাগের ভিতর এনআইডি কার্ড ও ব্যাংকের এটিএম কার্ড ছিলো। 

‎এ ঘটনায় মামলা না নিয়ে জিডির করানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় আসার পর আমরা মামলা করতে বলছি। তিনি বললেন মামলা করবেন না, জিডি করবেন। তাই আমরা এ ঘটনায় একটা জিডি নিয়েছি।

ওসি বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। মালামাল উদ্ধারে আমরা কাজ করছি।