ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির শেষে ধীরে ধীরে পুরোনো ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে ঢাকা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা থাকা সড়কগুলো আবারও দেখা গেছে চেনা ব্যস্ততার চিত্র।
রোববার (৩১ মে) সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে গেলেও সোমবার (১ জুন) পর্যন্ত রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম ছিল।
তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, শ্যাওড়া, ইসিবি চত্বর ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল বেড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং কিছু এলাকায় ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে সড়কে অফিসগামী মানুষ ও কর্মজীবীদের উপস্থিতিও বেড়েছে।
উত্তরা থেকে বিমানবন্দর সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, মোটরসাইকেল ও গণপরিবহনের চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য। খিলক্ষেত, কুর্মিটোলা ও শ্যাওড়া এলাকায় অফিসগামী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে ইসিবি চত্বর ও মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশকে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।
গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে যাত্রীসংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে এখনো তা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছায়নি।
একটি বাসের সহকারী রাসেল মিয়া বলেন, অনেক মানুষ এখনো ঢাকায় ফিরছেন। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রী বেড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে গেলে যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
আরেক সহকারী সুমন বলেন, সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বেশি। দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও ব্যস্ত হতে পারে।
এদিকে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দূরপাল্লার বাসে করে কর্মজীবী মানুষদের ঢাকায় ফিরতে দেখা যায়।
কিশোরগঞ্জ থেকে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদের সময়টা ভালো কেটেছে। এখন কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। যাত্রা স্বস্তিদায়ক হলেও ভাড়া কিছুটা বেশি ছিল।
কাপাসিয়া থেকে আসা শারমিন আক্তার জানান, ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরেছেন। বাসে ভিড় কম থাকলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন, যাত্রাপথে বড় কোনো যানজটের মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা এখনো রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানীতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং ঈদ-পরবর্তী কর্মচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পাবে।





