পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক ভূমিকম্প। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একচ্ছত্রভাবে রাজ্য শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলা থেকে কি তবে মাটি সরে গেল? নিজের দলের ওপর থেকেই নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই সোজা দিদির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু বুধবারের সেই রুদ্ধশ্বাস কয়েক ঘণ্টায় কী এমন ঘটল, যার কারণে মমতার নিজের গড়া দলই আজ ভাঙনের মুখে?
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, ৩ জুন সকালে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের ভেতরে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল, তা এক নিমেষে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। সকালে বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে স্পিকারের কাছে ৬০ জনের স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি জমা দেন।
বিকেল সাড়ে ৪টা বাজতেই আসে সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা! বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির এক বিশাল অংশ এখন খোদ মমতার সরকারের বিরুদ্ধেই প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে!
নাটকের এখানেই শেষ নয়। এরপরের দৃশ্যটি ছিল আরও চমকপ্রদ। রাজ্য সচিবালয় নবান্নে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী বিধায়কদের প্রায় সবাই গিয়ে সেই বৈঠকে যোগ দেন। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠক পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই চরম অস্থিরতা এবং অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে পাল্টা চাল চেলেছেন সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সন্ধ্যায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে তিনি তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি এবং এর সমস্ত শাখা কমিটি একযোগে ভেঙে দিয়েছেন। দলের লাগাম নিজের হাতে ধরে রাখতেই মমতার এই মরিয়া চেষ্টা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
৬০ জন বিধায়কের এই বিদ্রোহ এবং দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া সব মিলিয়ে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন এক মস্ত বড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে। পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে ঠিক কী অপেক্ষা করছে? তিনি কি পারবেন আবার দল গুছিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে, নাকি এটাই তৃণমূলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পতন?





