স্পেনের পর উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে নক আউটের আশা বাঁচিয়ে রাখলো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে। হার্ড রক স্টেডিয়ামে ‘এইচ’ গ্রুপে থাকা এ দুই দলেরই আগে একটি করে ম্যাচ খেলে ১ পয়েন্ট করে ছিল।
প্রথম ম্যাচে ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভজিনিয়ার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে কেপ ভার্দ। এবার দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকেও ২-২ গোলে রুখে দিল তারা।
ম্যাচে ৬৫ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৭ শট নিয়ে গোলের দুটিই শুধু লক্ষ্যে রাখতে পারে উরুগুয়ে। কেপ ভার্দের ১২ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।
শুরু থেকে উরুগুয়ে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারছিল না তারা। উলটো ম্যাচের ২১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কেভিন পিনার বুলেট গতির ফ্রি কিকে ১-০ গোলে এগিয়ে নবাগত কেপ ভার্দে। এবারের বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি-কিকে দ্বিতীয় গোল এটি।
বিশ্বকাপে এই প্রথম সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল হজম করে উরুগুয়ে। কেভিন পিনা আফ্রিকার তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করেন।
১৯ বছর পর আবারও সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল হজম করল দলটি।
দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে বিশ্বকাপে দেশের প্রথম গোল করলেন কেভিন পিনা। ধাক্কা সামলে সাত মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ঘুরে দাঁড়াল উরুগুয়ে। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি। আরেকটি গোল করে, আরেকটি স্মরণীয় পারফরম্যান্সে, আবারও পয়েন্ট আদায় করে নিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে।
এর আগে বড় টুর্নামেন্টে উরুগুয়ে সর্বশেষ সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল হজম করেছিল ২০০৭ কোপা আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে।
এরপর ৪৪ মিনিটে উরুগুয়ে মিডফিল্ডার মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো সমতায় ফেরান দলকে। তার একটু পরেই প্রথমার্ধ শেষ হবার আগে পিছিয়ে থাকা উরুগুয়ে দ্বিতীয় গোল করে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে। যোগ করা সময়ের ৬ মিনিটে সতীর্থের হেড থেকে পায়ের টোকায় গোল করেন উরুগুয়ে মিডফিল্ডার আগুস্তিন কানোবিও।
তবে উরুগুয়ের খেলোয়াড়ের ভুলে বল পেয়ে ম্যাচের ৬১ মিনিটে দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরান হেলো ভারেলা। বিশ্বকাপের নবাগত এ দল নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে এসে দ্বিতীয় ম্যাচেই ২ গোলের দেখা পেল। মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই গোল করেন হেলিও ভারেলা। জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল।
গোলটি হয় উরুগুয়ের ডিফেন্ডার মাতিয়াস অলিভেরা ও গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার ভয়াবহ ভুল বোঝাবুঝিতে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অলিভেরা বলটিতে ঠিকমতো পা লাগাতে পারেননি। এদিকে মুসলেরা ছিলেন নিজের জায়গা থেকে অনেকটা এগিয়ে। সেই সুযোগে ভারেলা বলের কাছে পৌঁছে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং দূরপাল্লার শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন। একটু পর উরুগুয়ে আরেকবার জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি।
নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে আরেকটি ভালো সুযোগ পায় উরুগুয়ে। বেন্তানকুরের জোরাল শট প্রতিহত হয় রক্ষণে। বাকি সময়েও সুযোগ আসে দুই দলের সামনেই। তবে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো কিছু কেউ করতে পারেনি।
এই ম্যাচের পর ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেন এখন ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে, উরুগুয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়তে ও কেপ ভার্দে ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়তে অবস্থান করছে। ২ ম্যাচে এক ড্র ও এক হার নিয়ে ১ পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থতে আছে সৌদি আরব।
আগামী শনিবার এ গ্রুপের শেষ রাউন্ডে স্পেন-উরুগুয়ে ও সৌদি আরব-কেপ ভার্দে মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে স্পেন জয় পেলে সৌদি আরবের সাথে ড্র করলেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে পরের রাউন্ডে চলে যাবে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মত আসা দলটি।





