সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নের কাজ আরও একধাপ এগিয়ে নিতে আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবিত রূপরেখা, এটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্য কৌশল এবং সরকারের ওপর এর সার্বিক আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো—বর্তমান বাজারের লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং সরকারের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা। গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রയোজনীয় খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমেছে। ফলে বিদ্যমান বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, বরং পুরো বেতন কাঠামোকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেতন কাঠামো বাস্তবসম্মত করা, পদোন্নতির সাথে বেতন বৃদ্ধির সম্পর্ক আরও জোরালো করা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতার হার পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আজকের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা, আর্থিক শৃঙ্খলায় আইএমএফের কড়া নজর
এদিকে বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সাথেও সরকারের এই নতুন জাতীয় পে স্কেলের পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ওপর যেন হঠাৎ কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি না হয়, সেজন্য নতুন এই বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
আইএমএফের প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় বিশেষভাবে জানতে চেয়েছে, নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের মোট ব্যয় কতটা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সেই বাড়তি ব্যয়ের ধাক্কা সামলাতে সরকারের কী ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। একই সাথে সংস্থাটি বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব অহরণ বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। আইএমএফ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, স্থায়ী ও শক্তিশালী রাজস্ব ভিত্তি তৈরি না করে বড় পরিসরে সরকারি ব্যয় বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক “স্থিতিশীলতা” (Economic Stability) এর জন্য বড় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই তারা যেকোনো বড় সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে।





