ফিফার বিশ্বকাপ একাদশ নিয়ে প্রশ্ন, নেই দুই তারকা!

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের গল্প লিখতে গেলে রক্ষণভাগের কথা না বললেই নয়। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে ইতিহাস গড়া দলের সেন্টার-ব্যাক জুটি পাউ কুবারসি ও আয়মেরিক লাপোর্তে ছিলেন সেই সাফল্যের প্রধান স্থপতি। অথচ বিশ্বকাপ-পরবর্তী ফিফার ঘোষিত সেরা একাদশের মনোনয়ন তালিকায় জায়গাই হয়নি এই দুই ডিফেন্ডারের। আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক!

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বমঞ্চে অসাধারণ পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন কুবারসি। অভিজ্ঞ লাপোর্তের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন দুর্দান্ত বোঝাপড়া। তাদের নেতৃত্বে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একবার বল কুড়িয়েছে নিজেদের জাল থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেতেলারের গোলই ছিল স্পেনের বিপক্ষে একমাত্র সফল আক্রমণ। রক্ষণে অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে কুবারসি জিতেছেন আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকাকে রাখা হয়নি সেরা একাদশে!

এমন পারফরম্যান্সের পরও ফিফার সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই কুবারসি কিংবা লাপোর্তের নাম। ভোটারদের জন্য ঘোষিত তালিকায় ৩-৪-৩, ৪-৪-২ অথবা ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজানোর সুযোগ রাখা হলেও প্রতিটি পজিশনে নির্দিষ্ট মনোনীত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেই নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু সেন্টার-ব্যাক পজিশনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের এই সফল জুটির কাউকেই রাখা হয়নি।

ডিফেন্ডারদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন স্পেনের দুই ফুল-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো। এছাড়া রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো, ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ফ্রান্সের দাইয়ো উপামেকানো, নেদারল্যান্ডসের ভার্জিল ফন ডাইক এবং পর্তুগালের নুনো মেন্দেস।

স্পেন থেকে সেরা একাদশের মনোনয়ন পাওয়া অন্য ফুটবলাররা হলেন গোলরক্ষক উনাই সিমন, মিডফিল্ডার রদ্রি, মিডফিল্ডার ক্যাটাগরিতে থাকা লামিন ইয়ামাল এবং ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারজাবাল। অন্যদিকে মিডফিল্ডারদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাইকেল অলিসে, উসমান দেম্বেলে, লুকা মদরিচ, ইসমাইল সাইবারি ও এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণভাগে রয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হলান্ড, হ্যারি কেইন ও হুলিয়ান কুইনোনেস।

বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে স্পেন। সেই সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি ছিল দুর্ভেদ্য রক্ষণ।

তাই পুরো আসরে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সের পরও কুবারসি ও লাপোর্তেকে সেরা একাদশের মনোনয়ন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্প্যানিশ গণমাধ্যম ও সমর্থকদের কাছে বিস্ময়কর বলেই মনে হচ্ছে। অনেকের প্রশ্ন, বিশ্বকাপজয়ী দলের সবচেয়ে সফল বিভাগ যদি রক্ষণভাগই হয়, তবে সেই রক্ষণভাগের দুই মূল স্তম্ভ কীভাবে সেরা একাদশের প্রাথমিক তালিকাতেই জায়গা পেলেন না?

ফিফার ঘোষিত ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা একাদশ

গোলরক্ষক: স্পেনের উনাই সিমন, আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ, ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড, কুরাসাওয়ের এলোয় রুম এবং কেপ ভার্দের ভোজিনহা।

রক্ষণভাগ: স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো, আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো, ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ফ্রান্সের দাইয়ো উপামেকানো, নেদারল্যান্ডসের ভার্জিল ফন ডাইক এবং পর্তুগালের নুনো মেন্দেস।

মিডফিল্ডার: স্পেনের রদ্রি ও লামিন ইয়ামাল, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে ও উসমান দেম্বেলে, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ, মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি এবং আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ।

আক্রমণভাগ: স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন এবং মেক্সিকোর হুলিয়ান কুইনোনেস।