জ্বর-সর্দি-গলাব্যথায় স্বস্তি পেতে বানিয়ে নিন ৩ পানীয়

দিনভর বৃষ্টি, ঠান্ডা-আর্দ্র আবহাওয়া আর ভিজে যাওয়ার কারণে বর্ষায় সর্দি-কাশি, গলাব্যথা ও জ্বরের মতো নানা উপসর্গে ভুগতে পারেন অনেকে। অসুস্থতার সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করলে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং গলার অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শিকাগোপ্রবাসী বাঙালি পুষ্টিবিদ রেশমী রায়চৌধুরীর পরামর্শ অনুযায়ী, এ সময়ে ঘরে তৈরি কয়েকটি পানীয় খাওয়া যেতে পারে। তবে এগুলো জ্বরের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়। জ্বরের কারণ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সকালে তুলসী-আমলকির পানীয়: সকালে তুলসী, আমলকি ও আদা দিয়ে একটি পানীয় তৈরি করে খেতে পারেন। প্রথমে মিক্সার গ্রাইন্ডারে ৪ থেকে ৬টি তুলসীপাতা নিন। চাইলে সামান্য পুদিনাপাতাও যোগ করতে পারেন। এর সঙ্গে আধা আমলকি অথবা এক চা-চামচ লেবুর রস, এক টুকরো আদা বা সামান্য কাঁচা হলুদ এবং এক চিমটি বিটলবণ দিন।

এরপর দেড় কাপ পানি বা ডাবের পানি দিয়ে সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। পরে ছেঁকে পান করতে পারেন। তবে খালি পেটে পান করলে অস্বস্তি, অম্বল বা পেটের সমস্যা হলে খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।

সন্ধ্যায় হলুদ দুধ: সন্ধ্যায় পান করতে পারেন হলুদ মেশানো গরম দুধ। এজন্য প্রথমে কাঁচা হলুদ গ্রেট করে নিন। এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে তার সঙ্গে এক চিমটি দারুচিনি ও সামান্য গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গরম তরল গলা ব্যথা বা অস্বস্তিতে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।

গলা ব্যথায় আদা-হলুদের উষ্ণ পানীয়: দিনে দুই থেকে তিনবার খাওয়ার জন্য আগে থেকেই আদা, কাঁচা হলুদ ও গোলমরিচের মিশ্রণ তৈরি করে রাখতে পারেন। মিক্সার গ্রাইন্ডারে উপকরণগুলো বেটে নিয়ে একটি বরফের ট্রেতে ঢেলে ফ্রিজারে রাখুন। এতে ছোট ছোট কিউব তৈরি হবে।

গলা ব্যথা বা অস্বস্তি হলে একটি কিউব কাপে নিয়ে তার ওপর ফুটানো গরম পানি ঢেলে দিন। কিছুক্ষণ রেখে ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করতে পারেন।

তবে জ্বর হলে শুধু ঘরোয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ এবং বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, খুব বেশি দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, পানিশূন্যতা বা অন্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।