আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর প্রাথমিক ঘোষণা থাকলেও তা ২ মাস পেছানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক সভায় পরীক্ষা শুরুর তারিখ নিয়ে বোর্ড কর্মকর্তা ও অভিভাবক এবং পরীক্ষার্থীদের একাংশের মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে গত ২৫ জুন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষিত আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে পেছানোর পক্ষে মত এসেছে বেশি। উচ্চ পর্যায়ের ওই সভায় অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যদিও সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষের অপচয়রোধে এসএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এখন সে অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা।
তবে এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর পক্ষে অনেক যুক্তি দেখিয়েছেন পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে রমজান এবং মার্চের ৯ তারিখের দিকে ঈদুল ফিতরের সম্ভাবনা। সব হিসেব করে পরীক্ষাটা মার্চের মাঝামাঝি শুরু করলে পরীক্ষার্থীরা সিলেবাস শেষ করতে পারেননি মর্মে কোনো যুক্তি দেখাতে পারবেন না। শিক্ষকরা রোজার ছুটি শেষে ভালো মুডে পরীক্ষা নিতে পারবেন।
তবে, ভিন্নমত দিয়েছেন রাজধানী গভর্নমেন্ট ল্যারটরি হাইস্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষক। তার মতে, জুলাইতে প্রিটেস্ট হয়েছে গেছে। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টেস্ট শেষ করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। সাধারণত প্রিটেস্টের পর শিক্ষার্থীরা আর স্কুলমুখী না হয়ে কোচিংমুখী থাকেন। সেই হিসেবে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলেও কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে, কিছু অভিভাবক আাছেন যারা সব সময়েই চান পরীক্ষাটা পিছিয়ে যাক। আর একমাস পেছালেই কোচিং মালিকদের শত শত কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় হবে মডেল টেস্ট আর শর্ট সাজেশন দেওয়ার নামে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের পরে অর্থাৎ ১৪ মার্চ রোববার পরীক্ষা শুরুর হিসেব ধরে খসড়া রুটিন তৈরে করে তার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে, এসএসসি পরীক্ষা পেছানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি ১৮ আগস্ট এ প্রতিবেদন লেখা অবধি।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ড. মিলন পাবলিক পরীক্ষা এগিয়ে আনার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলে আসছেন, সেশনজটের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে ৪০ লাখ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়। আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, এটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে (জনমিতিক লভ্যাংশ) পিছিয়ে দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্বই হলো এই সময়কে সমন্বয় করা এবং আমরা এখন সেই চেষ্টাই করছি।
প্রতিবছর কমবেশি ২০ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসার জন্য ফরম পূরণ করেন। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ ঝরে যায় আরেকটা অংশ ফেল করে।





