নেপালের দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের বৃদ্ধ দম্পতি

অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার প্রহর পেরিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে ফিরেছেন নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে আটকে পড়া বসিরহাটের বৃদ্ধ দম্পতি অনুকূল পোদ্দার ও রেবা রায় পোদ্দার। নেপাল থেকে বিহার হয়ে ট্রেনে রবিবার ভোরে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছান তারা। পরে সরকারি উদ্যোগে পুলিশের গাড়িতে করে তাদের বসিরহাটের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

হাওড়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর বসিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল ফুল দিয়ে দম্পতিকে স্বাগত জানায়। এরপর তাদের উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর দম্পতি বাড়ি ফিরলে স্বস্তি ফিরে আসে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে।

বসিরহাটের কাছারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অনুকূল পোদ্দার ও তাঁর স্ত্রী রেবা পোদ্দার গত ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে কৈলাস মানসরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। একটি পর্যটন সংস্থার ব্যবস্থাপনায় অন্যদের সঙ্গে নেপাল হয়ে তাদের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নেপালে পৌঁছানোর পরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাদের সেই যাত্রা থেমে যায়।

দুর্যোগের দিন সকালে কাঠমান্ডু থেকে রসুয়ার দিকে রওনা দিয়েছিলেন তারা। প্রায় তিন ঘণ্টা যাওয়ার পর বাসচালক সামনে হড়পা বানের খবর পেয়ে গাড়ি থামিয়ে দেন। পরিস্থিতি বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটে যেতে দেখেন তারা। পরে চালকের পরামর্শে বাস থেকে নেমে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন।

অনুকূল পোদ্দার বলেন, ‘হঠাৎ দেখলাম চারদিক থেকে মানুষ দৌড়ে উঁচু জায়গায় উঠছে। পরে দেখি নদীর ওপর দিয়ে সাদা মেঘের মতো কিছু ধেয়ে আসছে। চালক তখন জানায়, এখান থেকে ফিরে যেতে হবে। নইলে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে আর ফেরা যাবে না। এরপর আমরা কাঠমান্ডুতে ফিরে আসি।

দুর্যোগের কারণে কৈলাস মানসরোবর যাত্রা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয় তাদের। তবে প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরতে পারাকে বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন অনুকূল পোদ্দার। তার ভাষায়, এটা হয়তো উপরওয়ালার ইচ্ছা ছিল। না হলে আমরাও বিপদের মধ্যে পড়ে যেতে পারতাম।

নেপালে দুর্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বসিরহাটে থাকা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দ্রুত ভারতে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাঠমান্ডু থেকে বিমানে ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে অনুকূল ও রেবা পোদ্দার তাদের সঙ্গে যাওয়া দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ট্রেনে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

অনুকূল পোদ্দার জানান, কাঠমান্ডু ও সেখান থেকে ফেরার পথ স্বাভাবিক থাকায় তারা দলের সঙ্গেই ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে নেপাল থেকে বিহার হয়ে ট্রেনে তারা হাওড়ায় পৌঁছান।

বসিরহাটে ফিরে প্রতিবেশী দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। তারা যেন সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে আসেন, সে জন্য প্রার্থনা করছিলাম। এখন তাদের ফিরে আসায় স্বস্তি পেয়েছি।

তবে অনুকূল ও রেবা পোদ্দার নিরাপদে ফিরলেও একই এলাকার আরেক দম্পতি স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তারা অন্য একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন। কাঠমান্ডুতে তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল পোদ্দার দম্পতির। তবে ২৬ আগস্ট নেপালে দুর্যোগের দিন সকালে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানোর পর থেকে স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অনুকূল পোদ্দার।