মেসির বিদায়ের সাক্ষী হতে ১৫ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিলেন তিনি

মেসির প্রতি ভালোবাসা এবং তাকে স্বচক্ষে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে দেখার অদম্য টান মানুষকে কতটা দূর নিয়ে যেতে পারে, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ভারতের কেরালার বাসিন্দা ইয়াদিল এম ইকবাল। হাতের মুঠোয় কোনো খেলার টিকিট না থাকা সত্ত্বেও ১৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে, দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে উপস্থিত হয়ে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের অংশ হলেন এই ভক্ত।

গত সপ্তাহে যখন আর্জেন্টিনার মাটিতে ইন্টার মায়ামি প্লেমেকার মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনলাইন টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন ৮৫ হাজার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এস্তাদিও মনুমেন্তালের সমস্ত টিকিট মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। টিকিট না পেলেও আশা হারাননি কেরালায় তিনটি রেস্তোরাঁর মালিক ইয়াদিল। বেঙ্গালুরু থেকে শুরু করে লন্ডন ও নিউইয়র্কে দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে আর্জেন্টিনা পৌঁছান তিনি। ম্যাচের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বুয়েনস আইরেসে পৌঁছে একটি বিশাল মেসি ম্যুরালের সামনে দাঁড়িয়ে হাতে একটি আসল টিকিট উঁচিয়ে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। নিজের অলৌকিক ভাগ্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এই অর্জনকে কেরালার সমস্ত ফুটবল ভক্তদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

খেলা শুরুর তিন ঘণ্টা আগেই মাঠে হাজির হন ইয়াদিল। আবেগপ্লুত হয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভর্তি হওয়ার মুহূর্ত ধারণ করার পাশাপাশি একটি ব্যানার হাতে ছবি তুলে পোস্ট করেন, যাতে লেখা ছিল, প্লিজ রেফারি, শেষ বাঁশি বাজাবেন না, আমি এটার জন্য তৈরি নই। ৩২ ঘণ্টা, ১৫ হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসেছি কেরালা থেকে অনেক ভালোবাসা নিয়ে…

৩৯ বছর বয়সী ফুটবল লিওনেল মেসি গত মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তাও করেন মেসি। তবে এই ম্যাচটি রেকর্ড গড়ার জন্য ছিল না; এটি ছিল আর্জেন্টিনার ফুটবলের বরপুত্র এবং দেশটিতে দিয়েগো ম্যারাডোনার সমকক্ষ আসন পাওয়া ফুটবল লিজেন্ডের প্রতি এক পরম শ্রদ্ধাঞ্জলি। মেসি যখন বিদায়ী ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন তাকে ঘিরে ছিলেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থরা ও তার পরিবার। গ্যালারিজুড়ে তখন রোরিং মেসি স্লোগান, আর কান্না চেপে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন ফুটবল জাদুকর।

সেই আবেগঘন মুহূর্তের অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ইয়াদিল। কেরালায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় ট্রোলের শিকার হলেও মেসির প্রতি তার ভালোবাসা কখনোই কমেনি। গত জুনে মেসির জন্মদিনে করা তার এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে খোদ মেসি নিজে থ্যাংক ইউ, ইয়াদিল লিখে কমেন্ট করেছিলেন, যা তার জীবন বদলে দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমকে ইয়াদিলের দুবাই প্রবাসী বন্ধু আশিম পিকে জানান, মেসির কাছ থেকে সেই একটি বার্তা পাওয়ার পর ইয়াদিলের সমস্ত ত্যাগ সার্থক হয়েছিল, আর আজ সরাসরি স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে বিদায় জানানোর মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূর্ণতা পেল।

এর আগে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাতটি ম্যাচের প্রতিটিতেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ইয়াদিল। কাতার যাওয়ার আগে তিনি মানত করেছিলেন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে তিনি ওমরাহ পালন করতে যাবেন। আর্জেন্টিনা বিশ্বজয়ী হওয়ার পর তিনি সৌদি আরবে ওমরাহ আদায় করতেও যান।

সূত্র: খালিজ টাইমস