১৩০ ফায়ার স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন

দেশে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে ১৩০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম দ্রুত করতে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, নতুন স্টেশন স্থাপনের জন্য জমি, জনবল, সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হয়।

শনিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কক্সবাজারের ইনানী ও সাজেকের মতো পর্যটন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এবং ফায়ার স্টেশন থেকে দূরত্বের কারণে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বিলম্বের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মহাপরিচালক বলেন, সাজেকে একটি স্যাটেলাইট স্টেশন চালু করা হয়েছে। বিদ্যমান স্টেশন থেকে জনবল ও সরঞ্জামের একটি অংশ পাঠিয়ে এটি চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, এটা অপর্যাপ্ত। আরও বেশি কিছু করা দরকার। আরও শক্তিশালী করা দরকার। তবে, এটা হুটহাট হবে না, একটু সময় লাগবে।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাজেকে গত বছর অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি রিসোর্ট পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। একইভাবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ ও ইনানী এলাকায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন থেকে দূরত্বের কারণে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে মহাপরিচালক জানান, ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বিদ্যমান জনবল ও সরঞ্জামের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শপিং কমপ্লেক্স, হোটেল-রিসোর্ট ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক এলাকায় ভবন ও হোটেল পাশাপাশি গড়ে উঠেছে। আবাসিক ভবনের নিচেও দোকানপাট রয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কীভাবে কার্যকরভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ আরও বলেন, আগুনের সূত্রপাতের সময় তা সাধারণত ছোট পরিসরে থাকে। শুরুতেই সতর্ক হলে আগুনের বড় আকার ধারণ করা ঠেকানো সম্ভব। পর্যটন এলাকায় সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকে আগুন লাগার মতো ঘটনা এড়াতে পর্যটকসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে। বিভিন্ন পেশাজীবী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, শুধু ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, বিদ্যমান জনবল ও সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের আরও গতিশীলভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।