ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বুধবার আকস্মিক সফরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গেছেন।
চলতি মাসে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করার পর দেশটিতে সফর করা প্রথম পশ্চিমা নেতা তিনি।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সপ্তাহান্তে সহিংস বিক্ষোভের পর জ্বালানি তেল ও ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দাম কমানোর লক্ষ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরের অংশ হিসেবে তিনি এ সফর করেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্যালেস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ম্যাক্রোঁ।
বৈঠকে যত মাস প্রয়োজন, তত মাস ফ্রান্সে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে সৌদি আরব। পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার বিকল্প অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, রিয়াদে তিন ঘণ্টারও কম সময় অবস্থান করেন ম্যাক্রোঁ।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতিদের হামলার মুখে দেশটির প্রতি ফ্রান্সের সংহতি প্রদর্শন করাই এ সফরের উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে। এর ফলে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ করতে এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ। এ ছাড়া হুতিদের সামুদ্রিক অবরোধ সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সফর নিয়ে নিজ দেশে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ম্যাক্রোঁ। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে চলমান অসন্তোষ প্রশমনে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উদ্বিগ্ন বা বিচলিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখানো চলবে না। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি। আমি আমার কর্মস্থলে আছি।’
এর আগে বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় ম্যাক্রোঁ জানান, হুতিদের হামলা থেকে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু তেল টার্মিনাল রক্ষায় সহায়তা করতে ফ্রান্স সেনাসদস্য পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত আট দিন ধরে ইয়ানবুতে আমাদের সেনাসদস্য ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে কাজ করছি। তাই এখানে আমাদের প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা রয়েছে।’
তথ্যসূত্র : এএফপি, কুয়েত টাইমস





