মেলোনি সরকারকে কাঁপিয়ে দিল ইতালির জেন-জি  

মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক যুদ্ধের উত্তাপে আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির চড়া দাম এবং ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ইতালির তরুণ প্রজন্ম। রাজধানী মিলানসহ দেশটির সাতটিরও বেশি প্রধান শহরে এখন ছড়িয়ে পড়েছে জেন-জির নজিরবিহীন এই গণবিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের রাজপথ অবরোধ ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ডানপন্থী জর্জিয়া মেলিানি সরকারের ভেতরে।

প্রাথমিকভাবে রাজপথে গান গেয়ে ও ব্যানার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শুরু হলেও, মাত্র চার দিনের মাথায় তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। মিলানের ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সম্মুখে ব্যারিকেড ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় পুরো এলাকা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বিলাসবহুল দোকানপাটে ভাঙচুর, লুটপাট চালায় এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ওপর ব্যাপক পাথর নিক্ষেপ করে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ চালিয়ে পুরো এলাকা ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এই সহিংস পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জরুরি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন। তবে বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই সহিংসতায় অভিযুক্ত হয়ে এ পর্যন্ত পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক বা স্কুলগামী কিশোর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চশিক্ষা বাজেট ছেঁটে ফেলা ও অনিশ্চিত সামাজিক দূরদর্শিতার বিরুদ্ধে তরুণদের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এটি। নিজেদের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে এবং একটি টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে ইতালির তরুণ সমাজ এখন সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতার ভিতকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। সরকার কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও বিক্ষোভকারীদের দমানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আপাতত এই যুব-বিদ্রোহ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।