সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন প্রোপাগান্ডা, কে এই হিট জনতা পার্টি?   

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মবেশী বা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার নতুন রূপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে হিট জনতা পার্টি। সম্প্রতি এই প্ল্যাটফর্মটির এক্স (পূর্ববর্তী টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার ডানকুনি বেদে পাড়া এলাকায় কথিত অবৈধ অভিবাসী হঠানোর একটি বিতর্কিত পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। ভারতের তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ছড়ানো এই ধরনের কনটেন্ট দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।

  • ছবির তথ্য ও মূল বক্তব্য

ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার ডানকুনিতে তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক দখলীকৃত এলাকা বিশেষ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তায় তাঁদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।

  • প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট

মূল আন্দোলনটি মূলত ভারতের বেকারত্ব ও রাজনৈতিক হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া অনলাইন-ভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক ট্রেন্ডের একটি অংশ বা শাখা হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিম সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডাকে হাতিয়ার করে এই দল ও গোষ্ঠীগুলো গড়ে উঠেছে।

  • প্রতিষ্ঠাতা ও নেপথ্যের উদ্দেশ্য

এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল প্রবক্তা বা কৌশলগত কুশীলবরা মূলত ইন্টারনেটে সক্রিয় রাজনৈতিক কমরেড বা কৌশলবিদরা। এগুলোর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো- বেকারত্ব, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বা প্রশাসনিক বিষয়গুলোকে সামনে আনার আড়ালে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাগরিক বা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং মেরুকরণমূলক রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে তরুণ সমাজ খুব সহজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মিম এবং সংবেদনশীল খবরের শিকার হচ্ছে। হিট জনতা পার্টি’র মতো নামধারী পেজগুলো মূলত রাজনৈতিক অসন্তোষকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং দুই দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করতে সাইবার যুদ্ধ চালাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের উচিত যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্ট বা প্রোপাগান্ডা অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে এর পেছনের ভূরাজনৈতিক ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করা।