শাবান মাসের পরেই আগমন ঘটে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সমন্বয়ে পবিত্র রমজান মাসের। রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে বান্দার জন্য রয়েছে অসংখ্য নেয়ামত। রমজান মাসে বান্দা একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও তাকওয়া অর্জন করতে পারে। প্রিয় নবী (সা.) শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি বেশি নফল রোজা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নামাজ আদায় করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব ও শাবান মাসব্যাপী এ দোয়া বেশি বেশি পড়তেন-
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগ না রমাদান। অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন আর আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন।’ শাবান মাসে রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিশেষ কিছু আমল তথা মাহে রমজান পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে মুমিনের কি করা উচিত তা আলোচনা করা হয়েছে।
রমজানের দু-এক দিন আগে রোজা না রাখা
রমজানের প্রস্তুতির মধ্যে এটিও একটি বিষয়- রমজানের মর্যাদা রক্ষার জন্য এর দু-এক দিন আগে রোজা না রাখা। তবে কেউ আগে থেকে রোজা রাখতে অভ্যস্ত হলে তার ব্যাপার আলাদা।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন রমজানের এক দিন কিংবা দুই দিন আগে অবশ্যই রোজা না রাখে। তবে হ্যাঁ, কারও (আগে থেকেই) এদিনে রোজা রাখার অভ্যাস থাকলে সে ওই দিনেও রোজা রাখতে পারে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮১৫; মুসলিম, হাদিস : ২৫৭০)
বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা
প্রত্যেক মুমিনের জন্য প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর দরূদ শরীফ পাঠ করা সর্বোত্তম ইবাদত। এটি মানুষের জন্য একমাত্র ইবাদত যা স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা ও ফেরেশতাগণ পালন করেন এবং পৃথিবীর সব ঈমানদারকে নবীর প্রতি দরূদ পড়ার নির্দেশ আল্লাহ তায়ালা নিজেই দিয়েছেন।
কোরআন পড়া ও বুঝা
পবিত্র কোরআন পড়া ও বুঝা সর্বোত্তম নফল ইবাদত। রমজান মাস কোরআন নাযিলের মাস। তাই রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে কোরআন পড়া ও বুঝা উচিত।
দান-সদকা করা
ধনী-গরিব নিয়েই আমাদের জীবন। কারো অগাধ পরিমাণ সম্পদ আছে, আবার কারো কিছুই নেই। ইসলাম সাম্যের ধর্ম। তাই ধনবান ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে নিদিষ্ট পরিমাণে গরিব ব্যক্তিদের দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) নিজে সর্বদা বেশি বেশি দান-সদকা করতেন এবং সাহাবাগণকে দান করতে উৎসাহী করতেন।
তওবা ও ইস্তেগফার করা
মানুষ স্বভাবত শয়তানে ধোঁকায় নিজেকে গুনাহের কাজে লিপ্ত করবে। কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালা হলেন, ‘গাফির’ ক্ষমাকারী, ‘গফুর’ ক্ষমাশীল, ‘গফফার’ সর্বাধিক ক্ষমাকারী। তাই বান্দা যখন নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত, লজ্জিত হয় এবং তওবা ও ইস্তেগফার পাঠ করে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তখনই আল্লাহতায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন। তওবাকারীকে আল্লাহতায়ালা ভালোবাসেন।
রমজানের পারিবারিক প্রস্তুতি
রমজানের বরকত ও পুণ্য অর্জনে পরিবারকে আগ্রহী করতে পারিবারিক তালিম করা। পরিবারের কোনো সদস্য কোরআন তিলাওয়াত করতে না পারলে, তাকে শেখানোর ব্যবস্থা করা। রমজানে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করা।
আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। ’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)
রমজানের সামাজিক প্রস্তুতি
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানপূর্ব সময়ে সমাজের লোকদের রমজান আগমনের বার্তা দিতেন, রমজানের সুসংবাদ জানাতেন এবং সবাইকে রোজা রাখার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতেন।
আল্লাহ বলেন, ‘তুমি উপদেশ দিতে থাকো, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসবে। ’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৫)
রমজান মহান আল্লাহর অপূর্ব রহমতের বারিধারায় সমৃদ্ধ একটি মাস। মুমিনের জন্য রমজান মাস ইবাদতের বসন্তকাল। তাই রমজান মাস যথার্থভাবে উদযাপনের জন্য শাবান মাস থেকেই এর প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।
প্রভাতনিউজ/এনজে





