রাজধানীর উত্তরায় গার্ডার চাপায় ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাস র্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) সব ধরনের কাজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুর্ঘটনার স্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, কমপ্লায়েন্স (নিরাপত্তা ব্যবস্থা) নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঢাকায় বিআরটিএ প্রকল্পের সব ধরনের কাজ বন্ধ থাকবে।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, বিআরটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গতকাল কথা হয়েছে, আজও তারা আমার সামনে আছেন। সচিবের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমি ওনাদের বলেছি, আগামী পরশু আমার সঙ্গে বসবেন। কেবল এই প্রজেক্টই নয়, ঢাকা শহরে যতগুলো প্রজেক্ট চলছে, ততক্ষণ সবগুলো প্রজেক্টের কাজ বন্ধ থাকবে।
মেয়র বলেন, প্রকল্প কাজ পরিচালনায় ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বলেই কিছুদিন পরপরই এরকম দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি প্রাণহানিও ঘটছে। উন্নয়ন কাজ এভাবে চলতে পারে না। সবার প্রথমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মেয়র আতিক বলেন, ঢাকায় বিআরটি, মেট্রোরেলসহ অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ চলছে। সব প্রকল্পের পরিচালকদের নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) নগর ভবনে মিটিং ডাকা হয়েছে। সেই মিটিংয়ে যদি তারা মানুষের জান মালের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন, তবেই কাজ শুরু করতে পারবেন।
এদিকে, ঢাকার উত্তরায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কংক্রিটের গার্ডার আছড়ে পড়ে হতাহতের ঘটনায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগে মামলা হয়েছে ঠিকাদার কোম্পানি, ক্রেইন চালক এবং প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে। নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরনা আক্তারের ভাই মো. আফরান মণ্ডল বাবু সোমবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা করেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, “মামলায় অবহেলার কারণে প্রাণহানির অভিযোগ করা হয়েছে। ক্রেইন চালকের পাশাপাশি প্রকল্পের অন্যতম ঠিকাদার কোম্পানি চায়না গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশনের (সিজিজিসি) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।





