বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় : কেএইউ উপাচার্য

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। এটি আমরা স্বীকার করতে বাধ্য। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে দিয়েছেন বিশালত্ব। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষকে একটি স্পষ্ট বাস্তব রাষ্ট্র দর্শন উপহার দিয়েছেন। ভাষা ও সংস্কৃতির একটি ধর্ম নিরপক্ষে রাষ্ট্র এবং জাতি উপহার দিয়েছেন। সেই জাতির নামই হলো বাঙ্গালী জাতি। তিনি সোমবার রংপুর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) ও বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ কর্তৃক যৌথভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ মাাহফিল পরবর্তী এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

রংপুরস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলা বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ আলী আজম। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন বলেন, ১৫ আগস্ট এলে আমরা এই আলোচনাগুলো বার বার করি। কেন করি? নতুন প্রজন্মকে জাতির প্রকৃত ইতিহাস জানানোর জন্যই করি। আগামী প্রজন্মের জন্য এরকম আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘ ২১ বছর এই বাংলাদেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধুকে আলোচনায় আনতে দেয়া হয়নি। বরং, জাতীয় ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। সে কারণে এই আলোচনাগুলো বার বার করা দরকার।
উপাচার্য জাকির বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করা হলো? বঙ্গবন্ধুর কী দোষ? বঙ্গবন্ধু ১৯৪৭ থেকে ৭১, দেশের মানুষের জন্য ১৪ বছর জেল খাটলেন, জীবন যৌবন উৎসর্গ করলেন বাংলার মানুষের জন্য।

গোয়েন্দারা বঙ্গবন্ধুকে নিরাপদে যেতে বললেও তিনি বলেছেন, ‘যে জাতির জন্য আমি সারা জীবন কষ্ট করতেছি তারা কখনো আমাকে মারতে পারে না’। অথচ এই দেশের কিছু মানুষ তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার কৃষিবিদ রশিদুল ইসলাম, আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আব্দুল হাই সরকার, জেলা মৎস্য অফিসার বদরুজ্জামান মানিক, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার সিরাজুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে, মিলাদ মাহফিলে বঙ্গবন্ধু এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষিবিদ আহসান হাবিব লিবার্টি ও কৃষিবিদ মল্লিকা রানী। আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় শতাধিক কৃষিবিদ অংশগ্রহণ করেন।