পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোয় ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগদানের পথ এখনো প্রশস্ত করতে রাজি নন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। রাশিয়া, গ্রিস, ইইউ, ন্যাটো– প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিজস্ব অবস্থানে অটল রয়েছেন তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধের আগে বেশ দেশে-বিদেশে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিবেশী দেশের উপর রাশিয়ার হামলার পর থেকে তুরস্ক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে।
ন্যাটোর সদস্য দেশ হওয়া সত্ত্বেও তুরস্ক রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এরদোয়ান রাশিয়ার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা চাপান নি।
একদিকে ইউক্রেনকে আক্রমণাত্মক ড্রোন সরবরাহ করলেও অন্যদিকে পুতিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন তিনি। সামরিক বাহিনীতে যোগদানের হুকুম অমান্য করে রাশিয়ার অনেক পুরুষ তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে।
ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দর কষাকষির ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান জোরালো করার পথে এগোচ্ছেন এরদোয়ান। ন্যাটো ও ইইউ-র সদস্য দেশ গ্রিসের সঙ্গে সংঘাতের প্রশ্নে প্রয়োজনে বল প্রয়োগের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোয় যোগদানের পথে এখনো বাধা দূর করতে প্রস্তুত নন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার ইস্তানবুলে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারশনের সঙ্গে আলোচনার পরেও তিনি সুর নরম করেন নি। সন্ত্রাসবাদ দমনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও সুইডেনের কাছ থেকে সেই দিশায় ‘স্পষ্ট পদক্ষেপ’ নেবার আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান।
অর্থাৎ তুরস্কের দৃষ্টিভঙ্গিতে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের মতো সিদ্ধান্ত দেখতে চাইছেন তিনি। উল্লেখ্য, ন্যাটোর সব সদস্য দেশের অনুমোদন ছাড়া নতুন সদস্য গ্রহণ করা সম্ভব নয়। বাকি সব সদস্য ছাড়পত্র দিলেও তুরস্কের টালবাহানার কারণে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগদান অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। অবশ্য হাঙ্গেরির অনুমোদনও বাকি রয়েছে।
সমর্থনের মূল্য আদায় করার আশা এখনো ত্যাগ করছেন না প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নিজের চরম শত্রু ফেতুল্লাহ গ্যুলেনের সমর্থকদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চান তিনি। চলতি মাসেই স্টকহোমে তিনি সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের সরকার প্রধানদের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন।
সেখানে ‘আরও ইতিবাচক’ ফলাফলের আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারশন বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার লক্ষ্যে তার দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত। সেই লক্ষ্যে ত্রিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এক ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ইঙ্গিত দিচ্ছেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী। ন্যাটো সদস্য হতে হলে অন্যান্য সদস্যদের প্রতি দায়িত্ব পালন করাও জরুরি বলে মনে করছেন ক্রিস্টারশন।





