চীনে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি, শহর ছাড়ছে বয়স্করা

তিন দিন আগে লিলি ওয়াং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। শেনঝেন শহরে নিজের ছোট অ্যাপার্টমেন্টে আইসোলেশনে রয়েছেন ২৯ বছর বয়সী ওই নারী। বর্তমানে তাঁর ব্যাপক জ্বর এবং গলাব্যথা রয়েছে।

নিজের অসুস্থতার মধ্যেই দাদির কথা ভেবেছেন লিলি।

শারীরিকভাবে তিনিও খুব নাজুক অবস্থায় রয়েছেন। লিলি বলেছেন, আমার মা-বাবা দ্রুত দাদিকে শহরের বাইরে নিয়ে গেছে।  

দুদিন আগে দাদিকে নিয়ে গ্রামে যাওয়ার পর লিলির মা-বাবারও কাশি শুরু হয়েছে। লিলি কাশতে কাশতে জানিয়েছেন, তার সহকর্মীদের বেশিরভাগই করোনায় আক্রান্ত।

চীনে সামর্থ্যবানরা চেষ্টা করছেন, পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রধান কোনো শহরে না রাখতে।   করোনাভাইরাসের বড় আকারের ঢেউয়ের হাত থেকে নিকটাত্মীয়দের বাঁচানোর জন্য তারা এটি করছে।

২৪ বছর বয়সী শুয়েন লু উইচ্যাটে আলজাজিরাকে বলেছেন, বর্তমানে বেইজিংয়ে করোনা পরিস্থিতি আসলেই খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে।  

তিনি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার সংগ্রাম করছেন। তিনি জানান, শহরের বাইরের ছোট একটি গ্রামে তাদের বাড়ি রয়েছে। সেখানে দাদাদাদিকে রেখে করোনা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।

শুয়েন লু বলেন, তারা যদি শহরে থাকতো, অসংখ্য যে বয়স্ক মানুষ মারা পড়ছে, তারাও অল্পদিনেই হয়তো সেই তালিকায় যুক্ত হতো।

বিক্ষোভের মুখে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে চীনে কঠোর কভিড বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। তারপর লেঅকজন করোনায় অসুস্থ হয়ে পড়ার বেশ কিছু রিপোর্ট বেরিয়েছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় এবং দেশটির শ্মশানগুলোতে মরদেহ অনেক বেশি সংখ্যক আসছে।